বাদল ফরাজীকে পুলিশ এসকর্ট দিয়ে ভারত থেকে ফেরত আনা হবে

451

রোজিনা ইসলাম, ঢাকা২৬ জুন ২০১৮, ১০:৫৬ 
আপডেট: ২৬ জুন ২০১৮, ১০:৫৮

বাংলাদেশি নাগরিক বাদল ফরাজীকে পুলিশ এসকর্ট দিয়ে হেফাজতের মাধ্যমে ভারত থেকে ফেরত আনা হবে দেশে। ২৭ জুন সকাল ১০টায় পুলিশের দুজন কর্মকর্তা ভারতে যাবেন এবং ২৯ জুন বাদল ফরাজীকে নিয়ে বিকেল সাড়ে চারটায় ঢাকা ফিরবেন।

গতকাল সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি কারা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। বাদল ফরাজীর অবশিষ্ট সাজার মেয়াদ বাংলাদেশের কারাগারের ভোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কারা মহাপরিদর্শককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ভারত ও বাংলাদেশে মধ্যে সম্পাদিত দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের হস্তান্তর চুক্তির (টিএসপি) আওতায় ভারতের আদালত থেকে সাজাপ্রাপ্ত বাদল ফরাজীকে ফেরত আনা হবে। বর্তমানে তিনি তিহার কারাগারে আছেন।

২০১১ সালে টিএসপি চুক্তি অনুমোদন করা হয়। এ চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশের কোনো ব্যক্তি ভারতে কেবল দণ্ডপ্রাপ্ত হলে তাঁকে দেশে সাজা খাটানোর জন্য ফিরিয়ে আনা যেতে পারে। আর বহিঃসমর্পণ চুক্তি অনুযায়ী, ফৌজদারি মামলায় বিচারাধীন বা দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে বিনিময় করার বিধান রয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ১০ বছর কারাবাসের পর বাদল ফরাজী নামের নিরপরাধ এক ব্যক্তিকে ভারতের কারাগার থেকে ফেরত আনার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। চার বছর চিঠি চালাচালির পর বাংলাদেশ সরকার নিশ্চিত হয়েছে, বাদল নিরপরাধ এবং তিনি এ দেশেরই নাগরিক। এ জন্য বন্দী বিনিময় চুক্তির আওতায় দ্রুত তাঁকে ফেরত আনার উদ্যোগ নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল প্রথম আলোকে বলেন, প্রথমে বাদল ফরাজীকে কারাগারে রাখা হবে। এরপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তাঁকে মুক্ত করার ব্যাপারে। এরপর রাষ্ট্রপতি চাইলে তাঁকে বিশেষ ক্ষমা করতে পারবেন অথবা তাঁর সাজা কমানো বা মওকুফ করতে পারবেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একটি খুনের মামলার আসামির সঙ্গে নামের মিল থাকার কারণে ২০০৮ সালে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে ঢোকার সময় বাদল ফরাজীকে গ্রেপ্তার করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। পর্যটক ভিসা নিয়ে বাংলাদেশের বাগেরহাট থেকে তাজমহল দেখতে বেরিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এরপর আর ফেরেননি। পাসপোর্ট অনুযায়ী, বাদলের স্থায়ী ঠিকানা বাগেরহাট ও বর্তমান ঠিকানা খুলনায়। বাগেরহাটের আবদুল খালেক ফরাজী ও সারাফালি বেগমের ছেলে তিনি।সরকারি নথিপত্র ঘেঁটে জানা গেছে, ২০০৮ সালের ৬ মে নয়াদিল্লির অমর কলোনির এক বৃদ্ধা খুনের মামলায় বাদল সিং নামের এক আসামিকে খুঁজছিল ভারতের পুলিশ। ওই বছরের ১৩ জুলাই বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশের সময় বিএসএফ ভুল করে বাদল ফরাজীকে গ্রেপ্তার করে। ইংরেজি বা হিন্দি জানা না থাকায় তিনি বিএসএফ সদস্যদের নিজের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেননি।

ভারতের বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, নিম্ন আদালতের রায়ে খুনের দায়ে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় ২০১৫ সালের ৭ আগস্ট বাদলকে দোষী সাব্যস্ত করেন দিল্লির আদালত। তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে হাইকোর্টেও একই সাজা বহাল থাকে। ঘটনা জানার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সুরক্ষা বিভাগে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। এরপর আইন মন্ত্রণালয়, পুলিশের বিশেষ শাখা এবং কারা অধিদপ্তর থেকে মতামত চাওয়া হয়।

বাদলের নির্দোষ হওয়ার বিষয়টি জানার পর গত ১৯ মার্চ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক জরুরি বৈঠক করে তাঁকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী গত ১৭ এপ্রিল স্বরাষ্ট্রসচিবকে এক ফ্যাক্স বার্তায় জানান, অনেক দিন ধরে বাদল ফরাজীকে বাংলাদেশে ফেরানোর বিষয়টি ঝুলে আছে। তাই এ বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। গত ২২ এপ্রিল ভারতে আনুষ্ঠানিক আবেদন পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘আমরা দ্রুত পুলিশ এসকর্ট পাঠিয়ে বাদল ফরাজীকে ফেরত আনব।’

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বাদল কারাগারে থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পাস করে কারাগার চত্বরের ইন্দিরা গান্ধী মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাস করেছেন। এর বাইরে আটটি ডিপ্লোমা কোর্স করেছেন। এখন ইংরেজি ও হিন্দিতে অনর্গল কথা বলতে পারেন তিনি।