১১৭ মামলা নিয়ে জটিলতা

820

১১৭ মামলা নিয়ে জটিলতা

রোজিনা ইসলাম | আপডেট: ০৩:২৭, জানুয়ারি ২১, ২০১৭ | প্রিন্ট সংস্করণ
*সন্ত্রাসবিরোধী আইনে অনুমোদন না নিয়ে অভিযোগপত্র *তদন্ত কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চিঠি

অনুমোদনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে না পাঠিয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা ১১৭টি মামলার অভিযোগপত্র সরাসরি আদালতে পাঠানোর কারণে মামলাগুলোর তদন্ত কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সরকারের অনুমোদন নেওয়ার এই বাধ্যবাধকতা অনুসরণ না করায় দায়িত্বে গাফিলতি হয়েছে বলে মনে করে মন্ত্রণালয়।

এদিকে সরকারের অনুমোদন ছাড়াই কয়েকটি মামলার অভিযোগ গঠন ও আদালতে বিচারকাজ শুরু হয়ে যাওয়ায় সেসব মামলার কার্যক্রম বন্ধ করে নতুন করে বিচারকাজ শুরু করতে হতে পারে বলে জানিয়েছেন সরকারি কৌঁসুলিরা। এই মামলাগুলোর মধ্যে জেএমবির শীর্ষ নেতা সাইদুর রহমানের মামলাও রয়েছে।
সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর ৪০-এর ২ উপধারা অনুযায়ী অভিযোগপত্র দায়েরের আগে সরকারের অনুমতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা আছে। কিন্তু রাজধানীর বিভিন্ন থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা ১১৭টি মামলার ক্ষেত্রে সরাসরি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত অনেকগুলোরই অভিযোগপত্র আমলে নেন। পরে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের পক্ষ থেকে অনুমোদনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেগুলোয় অনুমোদন দেয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বলছেন, পুরো প্রক্রিয়ায় পদ্ধতিগত ভুল হয়েছে। এতে যেসব মামলার বিচারকাজ শুরু হয়ে গেছে, সেসব মামলার আসামিপক্ষ পদ্ধতিগত ত্রুটির কথা বলে উচ্চ আদালতে আপত্তি তুলতে পারে।
ঢাকা মহানগরের সরকারি কৌঁসুলি মো. আবদুল্লাহ আবু প্রথম আলোকে বলেন, ‘ত্রুটি হয়েছে। এ ত্রুটি কোনো ছোটখাটো বিষয় নয়। এসব মামলা নতুন করে শুরু করতে হবে। পুনরায় অভিযোগপত্র দিতে হবে। তবে কোনো আসামিকে বাদ দেওয়া যাবে না। প্রয়োজনে যুক্ত হতে পারে। সবই হবে আইন মেনে।’
জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘এসব বিষয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করব। বিষয়টি খুবই চিন্তার বিষয়। কেননা, এসব মামলার আসামি জঙ্গি ও দুর্বৃত্ত। এ আইনে মামলা নেওয়ার উদ্দেশ্য হলো আসামিরা যাতে জামিন না পান এবং ৬০ দিনের মধ্যেই বিচার শেষ হয়। সম্প্রতি যেসব নাশকতার ঘটনা ঘটছে, এগুলোর অধিকাংশই এ আইনে নিতে বলা হয়েছে। তাই এ বিষয়ে আমরা কৌশল খুঁজছি।’
পুলিশের অপরাধ তদন্ত ও তথ্য প্রসিকিউশন বিভাগ সূত্রে জানানো হয়, ২০০৯ সালে সন্ত্রাসবিরোধী আইন প্রণয়নের পর রাজধানীর ৪০টি থানায় মোট ৩৬৫টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫০টি মামলা হয়েছে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) ও হিযবুত তাহ্রীরের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। এসব মামলায় জেএমবির ১৫৩ জন ও হিযবুত তাহ্রীরের ২১৫ জনকে আসামি করা হয়। গত বছরের ৮ মার্চ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে ও পরে রাজনৈতিক সহিংসতা ও নাশকতার ঘটনায় করা প্রায় ১০০ মামলা সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নেওয়ার পূর্বানুমোদন দেওয়া হয়।
আইনজীবী শাহদীন মালিক এ বিষয়ে প্রথম আলোকে বলেন, যেহেতু এখানে পদ্ধতিগত অনিয়ম হয়েছে, এ অনিয়ম শোধরানোর জন্য অভিজ্ঞ আইনজীবীদের সঙ্গে বসে উপায় খুঁজতে হবে। এটা প্রশাসনিক ব্যক্তিদের দক্ষতার বাইরে। আইনগতভাবেই সমস্যার সমাধান করতে হবে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ২০১০ সালের ২৫ মে জেএমবির শীর্ষ নেতা মাওলানা সাইদুর রহমানসহ তাঁর সংগঠনের তিন সক্রিয় সদস্যের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হলে ওই বছরের ৭ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। ঢাকার মহানগর দায়রা আদালত অপরাধ আমলেও নেন। মামলাটি বিচারের জন্য পাঠানো হয় ঢাকার ৬ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে, যেখানে বিচার শুরু হয় ২০১১ সালের ১৬ জানুয়ারি। পাঁচজনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। কিন্তু গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর ওই আদালত এক আদেশে সরকারের অনুমোদনের জন্য মামলার নথি ঢাকার মহানগর আদালতে ফেরত পাঠান।
এ ছাড়া আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান জসিম উদ্দিন রাহমানী ও নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহ্রীরের প্রধান সমন্বয়ক মহিউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে দুটি মামলাসহ ১১৭টি মামলার অভিযোগপত্র সরাসরি আদালতে জমা দেয় পুলিশ। আদালত থেকে মামলাগুলোর অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পরবর্তীকালে অনুমোদন দেওয়া হয়।