ফ্লোরিডায় বিক্ষোভ ‘জয়ী হয়েছেন বলে ট্রাম্প যা খুশি তাই করতে পারেন না’

819
রোজিনা ইসলাম, সেন্ট পিটার্সবার্গ, ফ্লোরিডা থেকে | আপডেট: ০২:২০, নভেম্বর ১৫, ২০১৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

‘হি ইজ অা রেসিস্ট, হি ইজ অা সেক্সিস্ট, হি ডাজন্ট রিপ্রেজেন্ট আস’ (তিনি একজন বর্ণবাদী, তিনি একজন লিঙ্গভিত্তিক বিভেদে
বিশ্বাসী, তিনি আমাদের প্রতিনিধিত্ব করেন না)। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরে রোববার সন্ধ্যায় কয়েক হাজার মানুষের প্রতিবাদ মিছিলের এ–ই ছিল মূল স্লোগান।
শহরের প্রধান সড়কে হঠাৎ করেই রোববারের স্বভাবসুলভ নীরবতা ভেঙে কানে ভেসে আসতে থাকে হাজার হাজার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদের গগনবিদারী এসব স্লোগান। তাঁরা একযোগে স্লোগান দিচ্ছিলেন, ‘নো সেক্সিস্ট, নো রেসিস্ট, ইউএসএ নো ট্রাম্প’। এসব স্লোগান শুধু ফ্লোরিডা নয়, শোনা যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব প্রান্ত থেকে, যা শুরু হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পরের সন্ধ্যা থেকেই।
মিছিলের সঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে প্যাট্রিক নামের একজনের কাছে জানতে চাইলাম, ‘তোমরা এই পর্যায়ে এসে কী চাও? নির্বাচন তো হয়েই গেছে, হিলারি ক্লিনটন নিজেও পরাজয় মেনে নিয়ে ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানিয়েছেন, তাহলে এখন রাস্তায় নেমে তোমরা কী অর্জন করতে চাও?’
জবাবে প্যাট্রিক বললেন, ‘হিলারি হিলারির কাজ করেছেন, আমি আমার কাজ করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বলতে চাই, আমেরিকার সভ্য সমাজে ট্রাম্পের মতো একজন বর্ণবাদী, লিঙ্গভিত্তিক অসম চিন্তার মানুষের কোনো স্থান নেই। তিনি নির্বাচিত হয়েছেন ঠিকই, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করেছে। এ দেশে সাদা-কালোয় কোনো ভেদাভেদ নেই।’
দুই হাতে দুই প্ল্যাকার্ড বহন করা লিন্ডা বলেন, ‘নারী ও অভিবাসী—ট্রাম্প এ দুই গ্রুপকে টার্গেট করবেন বলে আমাদের ভয় হচ্ছে। আমরা তাই রাস্তায় বেরিয়ে এসেছি।’ লিজ নামের আরেকজন বলেন, নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন বলে ট্রাম্প যা খুশি তা করতে পারেন না। নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্প যা যা বলেছেন, তাঁর ১০ ভাগও যদি তিনি করেন, তাহলে তা হবে আমেরিকার জন্য বিভীষিকাময়। কাজেই তাঁকে আগেভাগে বাধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন জায়গায় আন্দোলন হচ্ছে বলে লিজ জানান।
প্রতিবাদ-সমাবেশ আর কত দিন চলবে—এ প্রশ্নের উত্তরে লিজ বলেন, ‘কোনো দিনক্ষণ ঠিক করা নেই। আমরা চাই ট্রাম্প তাঁর বিতর্কিত অবস্থানগুলো থেকে সরে আসুন অথবা এগুলোকে ভেবেচিন্তে আরও গ্রহণযোগ্য কিছু করুন। তবেই আমেরিকা আবার গ্রেট হতে পারবে।’