যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ২০১৬: মোটা দাগে বিভক্ত মার্কিনরা

775
রোজিনা ইসলাম, সিরাকুস সিটি, যুক্তরাষ্ট্র থেকে | আপডেট: ০২:৩২, নভেম্বর ০৯, ২০১৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

সোমবার সন্ধ্যা। হেঁটে হেঁটে ভোটকেন্দ্রগুলো দেখছিলাম। ভোটকেন্দ্রগুলোর দরজা খুলে দিতে তখনো ১২ ঘণ্টার মতো বাকি। কাছেই দেখলাম একটি বিপণিবিতানে নারীদের বিভিন্ন ডিজাইনের রকমারি ব্যাগের একটি দোকান। অনেকটা উপযাচকের মতোই কর্মরত একজন বিক্রয়কর্মীর সঙ্গে ভাব জমানোর চেষ্টা করলাম। উদ্দেশ্য, কালকের নির্বাচন নিয়ে তাঁর ভাবনাটুকু পাঠকদের জন্য তুলে আনা। মেয়েটির নাম স্যান্ড্রা ওরফে স্যান্ডি। দু-এক কথায়ই জানা গেল স্যান্ডি স্থানীয় একটি কলেজে সোশ্যাল ওয়ার্কে স্নাতক পর্যায়ে পড়াশোনা করছেন। তাঁর ইচ্ছা ব্যাচেলর ডিগ্রি শেষ করে একটা ভালো চাকরি জোগাড় করে খণ্ডকালীন মাস্টার্স করা। আর কোনো দিন সম্ভব হলে একই বিষয়ে পিএইচডি করার স্বপ্নও মনে মনে পুষছেন তিনি।
স্যান্ডির পড়াশোনার বিষয়ের সঙ্গে আমেরিকার নির্বাচন অতি নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত উল্লেখ করেই জানতে চাইলাম কালকের নির্বাচন নিয়ে স্যান্ডির ভাবনা কী! হেঁসে বললেন, আমাদের মতো বিদেশিদের কাছেই শুধু নয়, সাধারণ আমেরিকানদের কাছেও এ নির্বাচন ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কেন এমন জানতে চাইলে স্যান্ডি জানান অনেক বিষয়ের কথা। আমেরিকার স্বাধীনতা ঘোষণার প্রায় আড়াই শ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম একজন নারী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার প্রায় দ্বারপ্রান্তে। একই সঙ্গে এই প্রথম প্রথাগত রাজনীতির অভিজ্ঞতাহীন একজন ব্যবসায়ী হোয়াইট হাউসের দরজায় কড়া নাড়ছেন! প্রথমবারের মতো আমেরিকা দেখল রাজনীতি কী করে একটি গোটা জনগোষ্ঠীকে দুই ভাগে ভাগ করে ফেলতে পারে। অতীতে ভোটারদের সামনে খুব কমই সুযোগ ছিল এত পরিষ্কার চয়েস করার।
দুই প্রার্থীর মাঝে ব্যবধান যেন যোজন যোজন। কর-নীতি থেকে শুরু করে ন্যূনতম মজুরি, বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্যবিমা, নিম্ন ও মধ্যবিত্তের জন্য উদার শর্তে ফেডারেল শিক্ষাঋণ, নারীর ইচ্ছা অনুযায়ী গর্ভপাতের অধিকার, অভিবাসননীতি, আমেরিকানদের অস্ত্র রাখার অধিকারের ওপর কড়াকড়ি নিয়ন্ত্রণসহ, অভ্যন্তরীণ ও বিদেশনীতি—সবকিছুতেই যেন দুই প্রার্থী কেউ কারও সঙ্গে একমত হতে পারেননি। পুরো দেশ সুস্পষ্টভাবে এবং মোটা দাগে দুই ভাগে বিভক্ত। একই পরিবারে দাদি যদি ট্রাম্পের ভক্ত; তবে নাতনি হয়েছেন হিলারির, বাবা ট্রাম্প সমর্থক হলে ছেলে ঠিক উল্টোটা। স্যান্ডি বলেই যেতে লাগল…!
একটু বাদ সেধে বললাম, এবারের নির্বাচনে তরুণ সমাজ নাকি আগের মতো উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে কারও পক্ষেই নামেনি!
স্যান্ডির স্বীকারোক্তি, ‘ঠিকই ধরেছ। দেখ, হিলারি তো আর বারাক ওবামা না! ওবামা পেরেছিলেন তরুণ সমাজকে মাঠে নামাতে। কারণ তাঁর আশা ও আকাঙ্ক্ষা “হোপ অ্যান্ড চেঞ্জ” স্লোগানটি প্রায় সব বয়সের মানুষের মনে এক অভাবনীয় অনুরণনের সৃষ্টি করতে পেরেছিল। এবার তাঁর কিছুটা কাছাকাছি যেতে পেরেছিলেন বার্নি স্যান্ডার্স। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন তো পেলেন হিলারি। তিনি ওবামা সূচিত পরিবর্তনের অনেক কর্মসূচি আরও এগিয়ে নেবেন বলে ঘোষণা দিলেও তিনি তো আমেরিকানদের কাছে একেবারেই নতুন।’