ইউনেসকোর কাছে আবার মতামত পাঠাবে সরকার

628
রোজিনা ইসলাম | আপডেট: ০৭:৩২, অক্টোবর ২১, ২০১৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

সুন্দরবনের পাশে রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল করে তা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সুপারিশ করে জাতিসংঘের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বিজ্ঞানবিষয়ক সংস্থা ইউনেসকো যে প্রতিবেদন দিয়েছে, সেটিকে ‘অগ্রহণযোগ্য ও ভিত্তিহীন’ বলছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। সরকারের পক্ষ থেকে ইউনেসকোর কাছে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট মতামত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, পরিবেশবাদীরা রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে বিভিন্ন সময়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেগুলোই ইউনেসকোর প্রতিবেদনে সুপারিশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠক করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর পাশাপাশি প্রকল্পের কাজও চলবে।

গতকাল বিদ্যুৎ বিভাগের সভাকক্ষে এই প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে বৈঠকেও প্রকল্পটি এগিয়ে নিতে নানা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়। ইউনেসকোর প্রতিবেদন বিষয়ে বিদ্যুৎসচিব মনোয়ার ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব অ্যাজেন্ডা থাকে। একটা পুকুর ভরাট হয়ে গেলে কৃষি মন্ত্রণালয় খুশি হয় কিন্তু মৎস্য মন্ত্রণালয়ের মন খারাপ থাকে, এই বিষয়টি সেই রকমই। ইউনেসকো যে প্রতিবেদন দিয়েছে, তার কোনো ভিত্তি নেই, এটা অগ্রহণযোগ্য।

সচিব আরও বলেন, ‘ইউনেসকো ঢাকায় এসে আমাদের সঙ্গে বৈঠক করে সন্তুষ্ট হয়ে ফিরে গেছে। তারা সে সময় বলছে আমরা যা করেছি, তা ঠিক আছে। ফিরে গিয়েই জানাল রামপাল প্রকল্প সরিয়ে ফেলতে হবে। সাত বছর ধরে আমরা এই প্রকল্পের জন্য ভূমির উন্নয়ন করেছি। এটা এমন বিষয় না যে বলল আর সরিয়ে ফেললাম।’

শর্ত না মানলে সুন্দরবনের বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি প্রত্যাহার হতে পারে, এমন আশঙ্কার বিষয়ে সচিব বলেন, ‘স্বীকৃতি না পেলে কী এসে যায়? আমাদের দেশের মানুষকে বিদ্যুৎ দিতে হবে, সেটা যেভাবেই হোক।’

ইউনেসকোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের পাওয়া তথ্য অনুযায়ী সুন্দরবনের পাশে রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হলে সুন্দরবনে চার ধরনের ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে। এগুলো হচ্ছে বায়ুদূষণ, পানিদূষণ, শিল্পের পুঞ্জীভূত দূষণ, জাহাজ চলাচল ও নদী খননের প্রভাব। এ বিষয়ে ইউনেসকো তিনটি সুপারিশ করেছে। এগুলো হচ্ছে রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হবে। ভারতের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সুন্দরবনে মিষ্টি পানির প্রবাহ বাড়াতে হবে এবং সুন্দরবন ঘিরে গড়ে ওঠা শিল্পকারখানা সম্পর্কে সমন্বিত সমীক্ষা করতে হবে।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘ইউনেসকো মূলত প্রযুক্তিগত বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। আমার মনে হচ্ছে তারা যে বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে, সে বিষয়গুলো নিয়ে পরিবেশ ও পানি মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিয়ে আলাপ করা উচিত। ইউনেসকো তাদের অবস্থান থেকে কথা বলছে, আমরা আমাদের অবস্থান থেকে বলছি।’ তিনি বলেন, সুন্দরবনের পাশে রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প না হলেও যেকোনো এক জায়গায় তো করতে হবে। এ জন্য সরকার প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিবেশগত প্রভাব যাচাই-বাছাই করে কীভাবে পরিবেশের ওপর তার প্রভাব কমানো যায়, তা নিয়ে একটি সঠিক সমাধান খুঁজে বের করবে। আর ইউনেসকোর মতামত তো সুন্দরবন নিয়ে, বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে নয়। সব মিলিয়ে সময় চলে এসেছে অন্য মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করার।