জয়কে নিয়ে ষড়যন্ত্র: তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চায় পুলিশ

568
রোজিনা ইসলাম | আপডেট: ১৮:৩৭, অক্টোবর ১৮, ২০১৬

সজীব ওয়াজেদ জয়প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও ক্ষতিসাধনের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে করা মামলা তদন্তের জন্য যুক্তরাষ্ট্র যেতে চান পুলিশের তিন কর্মকর্তা। ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের জন্য ওই তিন কর্মকর্তাকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হচ্ছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ওই কর্মকর্তা বলেছেন, গত ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) তিন কর্মকর্তার নাম সুপারিশ করে একটি চিঠি প্রস্তুত করে। পরে তা পাঠানো হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয় এতে অনুমোদন দিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে চিঠি প্রদানকারী জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ কমিশনার হাসান আরাফাত আজ মঙ্গলবার বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠিটি পাঠানো হয়েছে। তবে তা অনুমোদন হয়ে আমাদের হাতে এসে এখনো পৌঁছেনি।’

ওই তিন পুলিশ কর্মকর্তা হলেন মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা ও উপপুলিশ কমিশনার (ডিবি-দক্ষিণ) মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ, তদন্তকারী কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. রাজীব আল মাসুদ এবং জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ কমিশনার হাসান আরাফাত।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর ডিএমপির গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগের (দক্ষিণ) রমনা জোনাল টিমের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ কমিশনার হাসান আরাফাত স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও নিষ্পত্তির স্বার্থে আগামী ২০ নভেম্বর থেকে ২ ডিসেম্বর অথবা ওই সময়ের পরবর্তী যেকোনো সুবিধাজনক সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা প্রয়োজন।

যুক্তরাষ্ট্রের কানেটিকাটের ডানবুরি সিটি, ফেয়ারফিল্ড কাউন্টি এবং নিউইয়র্কের হোয়াইট প্লেইন ফেডারেল আদালত থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ ও ঘটনাস্থল পরিদর্শনের জন্য আনুমানিক ১০-১২ দিন সময় প্রয়োজন।

এ কাজের ব্যয়ভার সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বহন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয় চিঠিতে।

প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তাঁর তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে যুক্তরাষ্ট্রে অপহরণ করে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে পুলিশ গত বছরের আগস্টে পল্টন থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে, যা পরে মামলায় রূপান্তরিত হয়। গত ১৬ এপ্রিল ডিবি নিউ ইস্কাটন গার্ডেনের বাসা থেকে প্রবীণ সাংবাদিক শফিক রেহমানকে আটক করে। পরে তাঁকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখায় পল্টন থানার পুলিশ। দুই দফায় ১০ দিনের রিমান্ড শেষে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠান। পরে গত ১৮ এপ্রিল ওই মামলায় দৈনিক ‘আমার দেশ’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে রিমান্ডেও নেওয়া হয়। গত ৩১ আগস্ট এ মামলায় শর্তসাপেক্ষে জামিন পান শফিক রেহমান। গত ৬ সেপ্টেম্বর কারামুক্ত হন তিনি। পরদিন ৭ সেপ্টেম্বর জামিন পান মাহমুদুর রহমান।

পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ করে হত্যার ষড়যন্ত্রে বাংলাদেশ থেকে ৩০ হাজার মার্কিন ডলার পাঠানোর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১০ হাজার ডলার সাংবাদিক শফিক রেহমানের নামে গেছে।

এ মামলা প্রসঙ্গে ওই সময় সজীব ওয়াজেদ জয় ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে বলেন, মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরোর (এফবিআই) সাবেক এজেন্ট রবার্ট লাস্টিকের সঙ্গে সাংবাদিক শফিক রেহমানের সরাসরি যোগাযোগ ছিল। শফিক রেহমান মার্কিন নাগরিক না হয়েও ঘুষের মাধ্যমে এফবিআইয়ের গোপন নথি কিনেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে তাঁকে অপহরণ এবং খুনের পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতার ছেলে রিজভি আহমেদ সিজার এবং মার্কিন নাগরিক জোহানস থালেরের সঙ্গেও শফিক রেহমান বৈঠক করেন বলে জয় তাঁর স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন।