ইলিশ রপ্তানির পক্ষে মৎস্য অধিদপ্তর

1123
রোজিনা ইসলাম | আপডেট: ০২:২১, অক্টোবর ০৬, ২০১৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

.সাগর-নদীতে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়া নিয়ে সারা দেশে উচ্ছ্বাস চলছে বলা যায়। দাম আগের বছরগুলোর তুলনায় কম, তাই মধ্যবিত্তের ঘরে ঘরে ইলিশ কেনার ধুম চলছে। তবে মৎস্য অধিদপ্তরের মতে, এত ইলিশ ধরা পড়ায় তার অর্থনৈতিক মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বাংলাদেশ। তাই রুপালি এই সম্পদটি রপ্তানির অনুমতি দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে অধিদপ্তর।
গত রোববার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে লেখা চিঠিতে এ সুপারিশ করেছেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ আরিফ আজাদ। মন্ত্রণালয় থেকেও ইতিমধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে রপ্তানির অনুমতি দেওয়ার ব্যাপারে আলোচনা শুরু করেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখছে। বাণিজ্যসচিব হেদায়েতুল্লাহ আল-মামুন বলেন, তারা যদি রপ্তানি করতে চায় আমরা অবশ্যই অনুমতি দেব। এ নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলছিল।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রথম আলোকে বলেন, জেলেদের জালে বিপুল পরিমাণে ইলিশ ধরা পড়ায় এখন তাঁরা যথেষ্ট দাম পাচ্ছেন না। যদি রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয় তাহলে তাঁরা ভালো দাম পাবেন। জেলেদের স্বার্থের কথা চিন্তা করেই তাঁরা রপ্তানির অনুমতি দেওয়ার সুপারিশ করেছেন।
এর সঙ্গে ভিন্নমত প্রকাশ করে মৎস্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড ফিশের ইকো-ফিশ প্রকল্পের দলনেতা অধ্যাপক আবদুল ওহাব প্রথম আলোকে বলেন, এ বছর যে বিপুল পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়েছে, তার কার্যকারণ আমরা এখনো পুরোপুরি জানি না। আগামী বছর এই পরিমাণে ইলিশ না-ও পাওয়া যেতে পারে। পরপর তিন বছর যদি এই পরিমাণে ইলিশ পাওয়া যায়, তাহলে রপ্তানির চিন্তা করা যেতে পারে।
মহাপরিচালকের চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশে ইলিশের চাহিদার কথা বিবেচনা করে ২০১২ সালের ৩১ জুলাই বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ইলিশ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। কিন্তু এর আগে ২০১০-১১ সালে ৮ হাজার ৫৩৮ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানি করে ৩৫২.৪৯ কোটি টাকা এবং ২০১১-১২ সালে ৬ হাজার ১৭৩ মেট্রিক টন রপ্তানি করে আয় হয়েছে প্রায় ২৯৪ কোটি টাকা। চিঠিতে আরও বলা হয়, চলতি মৌসুমে ইলিশের প্রাপ্তি ও বিপণনের এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটেছে। প্রায় এক মাস ধরে স্বল্প মূল্যে সারা দেশের আনাচেকানাচে ইলিশ বিক্রি হয়ে আসছে। মৎস্য অধিদপ্তরের হিসাবে এ বছর বাংলাদেশে ইলিশের উৎপাদন চার লাখ টন ছাড়িয়ে যাবে। গত বছর ৩ লাখ ৮০ হাজার টন ইলিশ উৎপাদন হয়েছিল।
এদিকে গত জুনে ভারত ইলিশের ওপর থেকে রপ্তানি-নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানালেও বাংলাদেশ সে সময় এই অনুরোধ মানেনি। বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যবিষয়ক যুগ্ম ওয়ার্কিং গ্রুপের দশম বৈঠকে ইলিশ নিয়ে ভারতের এই বিশেষ অনুরোধ বাংলাদেশ নাকচে যে দুটি কারণ দেখিয়েছে তার একটি হলো, আকাশছোঁয়া অভ্যন্তরীণ চাহিদা; দ্বিতীয় কারণ, চাহিদা ও জোগানের বিপুল ঘাটতি।