তামিম চৌধুরীর বিষয়ে জানতে চায় কানাডা

518
রোজিনা ইসলাম | আপডেট: ০২:১৭, সেপ্টেম্বর ০৯, ২০১৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

.নারায়ণগঞ্জে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নিহত তামিম চৌধুরী কানাডার নাগরিক কি না, তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের কাছে তথ্য চেয়েছে কানাডীয় হাইকমিশন। একই সঙ্গে তামিমের মরদেহের কী হবে, এ ব্যাপারে বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত জানতে চেয়েছে হাইকমিশন।
ঢাকাস্থ কানাডীয় হাইকমিশন থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে এসব তথ্য চাওয়া হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে হাইকমিশন জানতে পেরেছে যে তামিম চৌধুরী নামে কানাডার একজন নাগরিক পুলিশের অভিযানে নিহত হয়েছেন। সে কারণে হাইকমিশনকে তামিমের পুরো পরিচয় নিশ্চিত করতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করার জন্য বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কানাডার হাইকমিশনের এই চিঠি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘তামিমের বিষয়ে আমরা কী তথ্য নিশ্চিত করব? কানাডিয়ান গোয়েন্দা সংস্থাই তো আমাদের তামিমের বিষয়ে তথ্য দিয়েছে।’
যেহেতু তামিম কানাডার নাগরিক, তাঁর লাশ ওই দেশে পাঠানো হবে কি না, জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তামিমের স্বজনেরা যদি কানাডায় লাশ নিতে চান, নিতে পারবেন। কেউ যদি মরদেহ দাবি না করে, তবে নিয়ম অনুযায়ী যা করার তা-ই করা হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, তামিম চৌধুরী নিহত হওয়ার আগেও বেশ কয়েক দফা কানাডার সরকার তামিমের বিষয়ে তথ্য চেয়ে চিঠি দিয়েছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তামিম চৌধুরীর বিষয়ে আমাদের কাছে যে তথ্য রয়েছে, তার বেশির ভাগই গোয়েন্দা সংস্থাগুলো থেকে পাওয়া। কানাডা এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারকে সহায়তা করেছে।’ তিনি বলেন, তামিম নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবি ও এর সমর্থনপুষ্ট অন্যান্য সংগঠনের নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের অর্থ, অস্ত্র, প্রশিক্ষণ ও পরামর্শের মাধ্যমে সহায়তা ও প্ররোচনা দিয়েছেন। তাঁর বাবার নাম শফিক আহমেদ চৌধুরী। পৈতৃক বাড়ি সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার বড়গ্রাম ফাদিমাপুরে। ১৯৮৬ সালে তামিমের জন্ম হয়।
সিলেটে থাকা তামিমের আত্মীয়রা এর আগে প্রথম আলোকে বলেছেন, তামিম তৃতীয় শ্রেণি বাংলাদেশে পড়েছেন। এরপর মা-বাবার সঙ্গে কানাডায় চলে যান। সেখানেই বড় হন। তাঁর মা-বাবাসহ পরিবারের সবাই কানাডায় বসবাস করেন।
পুলিশ বলছে, তামিম চৌধুরী ২০১৩ সালের ৫ অক্টোবর বাংলাদেশে আসেন।
গত ২৭ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায় এক জঙ্গি আস্তানায় পুলিশের অভিযানে দুই সহযোগীসহ নিহত হন তামিম চৌধুরী। পুলিশ বলছে, এই তামিম গত ১ জুলাই ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী।
নারায়ণগঞ্জে অভিযানের দিন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, তামিম চৌধুরী সিরিয়ায় প্রশিক্ষণ নিয়ে বাংলাদেশে এসেছিলেন। তামিম গুলশান হামলা ও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী।