বঙ্গবন্ধুর ছয় খুনির সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছে

610
রোজিনা ইসলাম | আপডেট: ০১:৫৬, জুন ১০, ২০১৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত ও দণ্ডিত পলাতক ছয় খুনি ও তাঁদের স্বজনদের নামে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
এই পলাতক আসামিদের গুলশান, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন স্থানে সম্পত্তি রয়েছে বলে জানতে পেরেছে সরকার। এ ছাড়া এই খুনিদের নিজেদের ও কাছের স্বজনদের অগ্রণী ও সোনালী ব্যাংকের কয়েকটি শাখায় যে টাকা রয়েছে, তা ক্রোক করা হবে। এর মধ্যে রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে এই খুনিরা যোগাযোগ করেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে তাঁদের আত্মীয়স্বজনের মুঠোফোন ট্র্যাকিং করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে থাকা এসব খুনির অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়ার জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ছয় খুনির মধ্যে রিসালদার (অব.) মোসলেহ উদ্দিনের খোঁজ পেয়েছে সরকার। তিনি ভারতে রয়েছেন বলা হলেও জার্মানির হামবুর্গে তাঁকে অনেকেই দেখেছেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি জার্মানি সফরে গেলে এ বিষয়ে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়া হয়।
অন্যদিকে এত দিন বলা হচ্ছিল, আত্মস্বীকৃত খুনি এস এইচ এম বি নুর চৌধুরীকে কানাডার নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সরকার সম্প্রতি জানতে পেরেছে, তাঁকে কানাডার নাগরিকত্ব দেওয়া হয়নি। তিনি রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন, যা কানাডা সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।
সম্প্রতি বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফেরানোবিষয়ক জাতীয় টাস্কফোর্সের এক সভায় এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ওই বৈঠকে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে পলাতক খুনিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘আমরা কয়েকজনের খোঁজ পেয়েছি। কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারভাবে শুরু হয়েছে। আশা করি খুব শিগগির অগ্রগতি হবে।’
সরকারের তথ্য অনুযায়ী বঙ্গবন্ধুর বাকি চার পলাতক খুনির মধ্যে খন্দকার আবদুর রশিদ পাকিস্তানে, শরিফুল হক ডালিম পাকিস্তান অথবা জিম্বাবুয়েতে, আবদুল মাজেদ সেনেগালে এবং এ এম রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।
পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, পাকিস্তানে পলাতক আবদুর রশিদের নামে কুমিল্লা জেলার চান্দিনা উপজেলায় ৬ দশমিক ১ একর জমির সন্ধান পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে কুমিল্লার জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শরিফুল হক ডালিম গুলশানের বাড়ি বিক্রির বিনিময়ে গৃহ নির্মাণের জন্য ঋণ নিয়েছিলেন। তাঁর গুলশানের বাড়ি নিলামে বিক্রির মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকের ঋণ সমন্বয়ের পর ব্যাংকের স্যান্ড্রি ডিপোজিট হিসেবে রাখা ৬৬ লাখ ৯৪ হাজার টাকা বাজেয়াপ্ত করা হবে। ধানমন্ডি সাতমসজিদ রোডে শরিফুল হক ডালিমের মালিকানাধীন ১০ কাঠা জমির বিষয়ে অনুসন্ধান করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজউককে। এ ছাড়া ঢাকার সাতমসজিদ রোডে মোহাম্মদপুরে তাঁর নামে চার কাঠার প্লট রয়েছে। গুলশানে নুর চৌধুরীর মালিকানায় ভবন থাকার খবর পেয়েছে সরকার। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত রাশেদ চৌধুরীর নামে ১ দশমিক ১৫ একর জমি রয়েছে। ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় অগ্রণী ব্যাংকের শাখায় ক্যাপ্টেন আবদুল মাজেদের হিসাবে অর্থ রয়েছে। এ ছাড়া গ্রামের বাড়িতে তাঁর নিজ নামে জমি রয়েছে।
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক প্রথম আলোকে বলেন, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই খুনিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে। এ সম্পত্তির মালিকানা কোনো আত্মীয়স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়ে থাকলে সেটাও ফেরত নিয়ে বাজেয়াপ্ত করা হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বলছে, দেশের যেসব স্থানে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের সম্পদ ব্যাংকে গচ্ছিত রাখার তথ্য পাওয়া গেছে, সেখানে স্থানীয় প্রশাসনকে অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত রাশেদ চৌধুরী ও কানাডায় অবস্থানরত নুর চৌধুরীকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ইতিমধ্যে ওই দুই দেশে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হয়েছে।
বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় ফারুক রহমান, বজলুল হুদা, সুলতান শাহরিয়ার রশীদ খান, এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ ও মহিউদ্দিন আহমেদের ফাঁসি ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি কার্যকর করা হয়েছে।