২৭ বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করে ফেরত: সিঙ্গাপুরের অভিযোগ তদন্ত করছে পুলিশ

757

রোজিনা ইসলাম | ২০ জানুয়ারি, ২০১৬
জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে সিঙ্গাপুর যে ২৭ বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে, সে ব্যাপারে অবগত রয়েছে সরকার। তবে এঁদের বিরুদ্ধে সিঙ্গাপুর সরকারের আনা অভিযোগ সত্য কি না তা পুলিশ এখন তদন্ত করে দেখছে। সত্যতা যাচাইয়ের আগে এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেওয়া হবে না।

২৭ বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার ও বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থা ও সিঙ্গাপুরে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মাহবুব-উজ-জামান। সূত্রগুলো জানিয়েছে, সিঙ্গাপুর সরকার বাংলাদেশের অনুমতি নিয়েই তাঁদের দেশে পাঠায়। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের দ্রুত ফেরত নেওয়ায় বাংলাদেশ সরকারকে অভিনন্দনও জানায় সিঙ্গাপুর।
হাইকমিশনার মাহবুব-উজ-জামান প্রথম আলোকে বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিরা হাইকমিশনে অভিযোগ করেন, তাঁরা কিছু বাংলাদেশির খোঁজ পাচ্ছেন না। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তাঁরা সিঙ্গাপুরের নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে আছেন। তাঁদের অনেক দিন ধরে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। নিশ্চিত হওয়ার পর বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সিঙ্গাপুর থেকে যোগাযোগ করা হয়। ১৬ নভেম্বর থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত কয়েক দফায় তাঁদের ঢাকায় পাঠানো হয়।
ওই ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও দেশে ফেরত পাঠানোর পর এত দেরি করে সিঙ্গাপুরের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কেন বক্তব্য দিল জানতে চাইলে হাইকমিশনার বলেন, সব তথ্য একসঙ্গে করার পর তারা বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতি দেওয়ার আগে সিঙ্গাপুর কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশকে বিষয়টি অবগতও করেছে।
সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশের হাইকমিশন সূত্র জানায়, সিঙ্গাপুর কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক সিকিউরিটি অ্যাক্ট অনুযায়ী জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া শেষে করেছে। তারা সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতেই ওই বাংলাদেশিদের গ্রেপ্তার করে।
বর্তমানে সিঙ্গাপুরে এক লাখ ৬০ হাজার বাংলাদেশ আছেন। এ ঘটনায় তাঁদের কোনো অসুবিধা হবে না বলে জানায় সিঙ্গাপুর হাইকমিশন সূত্র। এর আগে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলেও জানায় সূত্রটি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, এঁদের বিরুদ্ধে সিঙ্গাপুর সরকারের আনা অভিযোগ পুলিশ এখন তদন্ত করে দেখছে।
তবে স্বরাষ্ট্রসচিব মোজাম্মেল হক খান বলেছেন, কোনো দেশে অবৈধ অভিবাসী থাকলে তার তালিকা বাংলাদেশে পাঠালে নিয়মমাফিক পরীক্ষা করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তা সে সন্ত্রাসী হোক আর জঙ্গি হোক। কিন্তু এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঊর্ধ্বতন সূত্র জানায়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেই ওই বাংলাদেশিদের দুই থেকে তিনজনকে করে দফায় দফায় ঢাকার গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পাঠানো হয়েছে। এঁরা সেখান থেকে জামায়াতের সংগঠনগুলোকে টাকা-পয়সা পাঠাত বলে প্রমাণ রয়েছে। সন্ত্রাস দমন আইনে এঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অারও পড়ুন :
২৭ বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তারের তথ্য প্রকাশ করল সিঙ্গাপুর