রাজধানী সুপার মার্কেট: চাঁদাবাজি নিয়ে তদন্তে নেমেছে পুলিশ

791

রোজিনা ইসলাম | ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৫
টিকাটুলীতে অবস্থিত রাজধানী সুপার মার্কেটে চাঁদাবাজি নিয়ে তদন্তে নেমেছে পুলিশ। সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থা ওই মার্কেটে চাঁদাবাজি নিয়ে একটি তদন্ত প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দিয়েছে। প্রতিবেদনে মার্কেটের সভাপতি ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ময়নুল হক ওরফে মনজুর ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আনা হয়েছে।
অবশ্য ময়নুল হক চাঁদাবাজির এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, এসব ঠিক নয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (অপরাধ) কৃষ্ণপদ রায় প্রথম আলোকে বলেন, কয়েক দিন আগে রাজধানী সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজি থেকে রক্ষা পেতে পুলিশ কমিশনারের কাছে আবেদন করেন। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, মনোনয়নের মাধ্যমে রাজধানী সুপার মার্কেটের দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হন ময়নুল হক। সভাপতি হওয়ার পর থেকে তিনি প্রভাব খাঁটিয়ে মার্কেটটি নিয়ন্ত্রণে নেন। মার্কেটে সার্ভিস চার্জ ও বিদ্যুৎ বিলের নামে অতিরিক্ত টাকা নেন। আগে যেখানে দারোয়ান ও জেনারেটর বিল বাবদ ৪০০ টাকা নেওয়া হতো, সেখানে তিনি আদায় করেন ৯৫০ টাকা করে। রাজধানী সুপার মার্কেটে প্রায় দেড় হাজার দোকান রয়েছে। এপাশে নিউ রাজধানী সুপার মার্কেটে আরেকটি মার্কেট আছে ২৮৮টি দোকান নিয়ে। এ ছাড়া মার্কেটের প্রবেশপথে ও ফুটপাতে শ খানেক ভাসমান দোকান আছে।
গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে চাঁদাবাজি বন্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে মালিক সমিতির পুরোনো কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি গঠনের সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে রাজধানী সুপার মার্কেটে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে বলা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাণিজ্যিক এলাকায় বিদ্যুৎ বিল প্রতি ইউনিট আট থেকে নয় টাকা হলেও কাউন্সিলর ময়নুল হক প্রতি ইউনিটে ১৩ টাকা করে আদায় করেন। এর বাইরে ফুটপাতের দোকান থেকে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ টাকা আদায় করা হয়।
এতে বলা হয়, সময়মতো দোকান মালিক সমিতির নির্বাচন না হওয়া এবং সভাপতির সহযোগীদের চাঁদাবাজির কারণে মার্কেটের সভাপতির বিরুদ্ধে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর আগে ব্যবসায়ীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে র্যা ব ময়নুল হকের সহযোগী মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এইচ এম রেজাউল করিমকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁকে যুবলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
একজন র্যা ব কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত ৮ জুলাই মধ্যরাতে ওই মার্কেটে চাঁদাবাজির সময় র্যা বের ভ্রাম্যমাণ আদালত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ১০ জনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ওই সময় রাজনৈতিক চাপে মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে দণ্ডপ্রাপ্তরা সবাই কারাগার থেকে বেরিয়ে এসেছেন।
ব্যবসায়ীদের কয়েকজন প্রথম আলোকে বলেন, ওয়ার্ড কাউন্সিলর ময়নুলের লোক হিসেবে পরিচিত আলী হোসেন, সায়েম খান ওরফে টুণ্ডা সায়েম, সাইদুল ইসলাম, মো. জাফর ওরফে সানি, কাঙালি সোহেল, আফজাল হোসেন ওরফে বেডিং আফজাল, মোরশেদ ও গালকাটা আজিজরা চাঁদাবাজি করছেন।
তবে ময়নুল হক বলেছেন, ব্যবসায়ীরা তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ করেছেন। তিনিই কমিটির বৈধ সভাপতি।
ব্যবসায়ীরা জানান, মার্কেটটিকে চাঁদাবাজমুক্ত করতে সব ব্যবসায়ীকে নিয়ে সমিতির কমিটি গঠন করতে বলেছিল পুলিশ। কিন্তু তা করা হয়নি। বরং সমিতির কার্যালয় খোলার পর আবার চাঁদাবাজি শুরু হয়েছে। এ কারণে অতিষ্ঠ আট ব্যবসায়ী ২৬ আগস্ট ওয়ারী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।