ভুল বোঝাবুঝির জন্য দুঃখ প্রকাশ

795

রোজিনা ইসলাম | ০১ ডিসেম্বর, ২০১৫
দ্য হিন্দু পত্রিকার সহকারী সম্পাদক কল্লোল ভট্টাচার্য বলেছেন, ওই সংবাদের জন্য নয়, সংবাদটি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

আজ মঙ্গলবার রাতে কল্লোল ভট্টাচার্য প্রথম আলোকে জানান, দ্য হিন্দুর পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন ছিল, তাঁরা জানতে পেরেছেন, জাপানি নাগরিক কুনিও হোশির দুই গুপ্তঘাতক সন্ত্রাসী বা আইএস সদস্য যাই বলা হোক না কেন, তারা ভারতে পালিয়ে গেছেন—এটা ঠিক কি না। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমরাও শুনেছি। ভারত সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করছি।’ কিন্তু প্রতিবেদনটি দ্য হিন্দু পত্রিকায় সম্পাদনার সময় শুধু আইএস বলা হয়েছে। যেটার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আপত্তি তুলেছেন, যেহেতু বাংলাদেশ সরকার দাবি করেছেন বাংলাদেশে আইএস নেই।

কল্লোল ভট্টাচার্য বলেন, ‘আমার প্রশ্নটা যেহেতু আইএস নিয়ে ছিল, আমি ভেবেছি মন্ত্রী সেটাই বুঝিয়েছেন, হয়তো সে কারণে প্রতিবেদনটি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে।’

দ্য হিন্দুতে কোনো প্রতিবাদ বা ব্যাখ্যা দেওয়া হবে কী না জানতে চাইলে কল্লোল ভট্টাচার্য বলেন, ‘হাইকমিশন থেকে এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা বা প্রতিবাদ পাঠানো হয়নি। আর আমাদের পক্ষ থেকে তো প্রতিবাদ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। কারণ আমার সংবাদ তো ঠিক ছিল। যারা পুরোটা প্রতিবেদন পড়েছেন, তাঁরা বুঝতে পারবেন।’

এর আগে আজ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশ সম্পর্কে ভুল খবর প্রকাশের জন্য দ্য হিন্দু পত্রিকার প্রতিবেদক কল্লোল ভট্টাচার্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। গত ২৫ নভেম্বর দ্য হিন্দু পত্রিকায় ‘উই আর ট্র্যাকিং টু আইএস কিলার ইনসাইড ইন্ডিয়া, সেজ বাংলাদেশ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ওই প্রতিবেদনে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে উপস্থাপন করা হয় যে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দ্য হিন্দুকে বলেছেন, জাপানি নাগরিক হোশিও কুনির দুই গুপ্ত ঘাতক আইএস সদস্য ভারতে পালিয়ে গিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে প্রতিবেদকের মুঠোফোনে কথোপকথনের সঙ্গে প্রতিবেদনে উল্লেখিত বক্তব্যের মিল নেই। এ বিষয়ে নয়াদিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী কল্লোল ভট্টাচার্যকে ডেকে পাঠান এবং এ ধরনের অসত্য প্রতিবেদন প্রকাশের তীব্র প্রতিবাদ জানান। তাঁর প্রতিবেদনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলে উপস্থাপনেরও প্রতিবাদ জানান। পরবর্তীতে প্রতিবেদক কল্লোল ভট্টাচার্য নয়াদিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশনারের কাছে ভুল প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য ক্ষমা চান। ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশের বিষয়ে সতর্ক থাকার প্রতিজ্ঞা করেন।

আরও পড়ুন…
ভুল খবরের জন্য দুঃখ প্রকাশ ভারতীয় সাংবাদিকের