বাড়তি নিরাপত্তা চান সবাই

755

রোজিনা ইসলাম | ২৩ নভেম্বর, ২০১৫  

সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকরের পর নাশকতা ঠেকাতে রাজধানীতে বিজিবির টহল। গতকাল রাত সাড়ে ১০টায় রূপসী বাংলা মোড় থেকে ছবিটি তোলা l প্রথম আলো

সাম্প্রতিক সময়ে দেশি-বিদেশি নাগরিকদের হত্যা ও শনিবার দিবাগত রাতে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত বিএনপি ও জামায়াতের দুই নেতার ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার পর আবারও নিরাপত্তা চেয়েছে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। নিরাপত্তা জোরদার করতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে আনসার ও বিজিবি চাওয়া হয়েছে। এসব চিঠিতে নাশকতার আশঙ্কা করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এ প্রসঙ্গে প্রথম আলোকে বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে যেন না পারে, সে জন্য ঢাকাসহ সারা দেশে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে সরকার। প্রয়োজনে আরও নিরাপত্তা বাড়াবে। তিনি জনগণকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
এদিকে গতকাল ঢাকার মিসরের দূতাবাস থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, বিদেশে অবস্থিত মিসরের কয়েকটি দূতাবাসে সন্ত্রাসী আক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে। এ জন্য ঢাকায় মিসরের দূতাবাসসহ রাষ্ট্রদূতের বাসভবনের নিরাপত্তা জোরদার করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানানো হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় পুলিশের মহাপরিদর্শককে মিসরের দূতাবাস ও রাষ্ট্রদূতের বাসভবনের
নিরাপত্তা জোরদার করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
বিডিআর বিদ্রোহ মামলার আপিল শুনানিতে অংশগ্রহণকারী বিচারকদের নিরাপত্তা জোরদার করার কথা বলা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি হত্যা ও হুমকির ঘটনায় বিচারপতিরা নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন। এ অবস্থায় ওই বিচারকার্যে নিয়োজিত তিনজন বিচারপতি শওকত হোসেন, আবু জাফর সিদ্দিকী ও নজরুল ইসলাম তালুকদারের পুলিশি নিরাপত্তায় যাতায়াতের ব্যবস্থা করাসহ তাঁদের বাসায় নিরাপত্তা জোরদার করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও আশপাশের এলাকা এবং চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সিলেটের জেলা প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আট প্লাটুন বিজিবি এবং দিনাজপুর পর্যাপ্তসংখ্যক বিজিবি চেয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও বাঁশখালী উপজেলাসহ অন্যান্য উপজেলায় দুই প্লাটুন করে বিজিবি মোতায়েন করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, গাজীপুর ও ঢাকা মহানগর এলাকায় প্রয়োজনীয় বিজিবি মোতায়েনের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
যোগাযোগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রকল্প। এ প্রকল্পের আওতায় নদীর উভয় প্রান্তে বিভিন্ন ধরনের নির্মাণকাজ পুরোদমে চলছে। নির্মাণকাজের বিভিন্ন মালামাল এবং দেশি-বিদেশি জনবলের নিরাপত্তার জন্য প্রকল্পের সেতুর উভয় পাশে প্রয়োজনীয়সংখ্যক আনসার চাওয়া হয়েছে।