বাংলাদেশ-ভারত স্বরাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠক আজ শুরু

805

আলোচনায় থাকছে সীমান্তে হত্যা, সন্ত্রাসবাদ 

রোজিনা ইসলাম ১৬ নভেম্বর, ২০১৫

সীমান্তে হত্যা বন্ধ, সন্ত্রাসবাদ, মাদক ও মানব পাচারকে আলোচ্যসূচিতে প্রাধান্য দিয়ে আজ সোমবার থেকে ঢাকায় শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ-ভারত স্বরাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠক। এ সমস্যাগুলো দুই দেশের ক্ষেত্রে অভিন্ন বলেই এসব বিষয়ে একযোগে কাজ করতে চায় দুই দেশ।এ বৈঠকের প্রস্তুতির সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশ এবার সীমান্ত হত্যা বন্ধের ওপর বেশি জোর দেবে। ভারত এর আগে বারবার আশ্বাস দিলেও সীমান্তে হত্যা বন্ধ হয়নি। গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত স্বরাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠকেও ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সীমান্তে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা হবে। প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হবে না। কিন্তু গত নয় মাসে ২৬ জন বাংলাদেশি সীমান্তে নিহত হয়েছেন। বিএসএফ যদিও বলেছে, কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশনায় গরু পাচার কমিয়ে আনার জন্যই ওই সব গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছিল। তবে বাংলাদেশি একটি গ্রামে দুবার ঢুকে বেসামরিক লোকজনকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বিএসএফের বিরুদ্ধে।

আজকের স্বরাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. মোজাম্মেল হক খান। ভারতের পক্ষে থাকবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব রাজীব মহর্ষি। তাঁর নেতৃত্বে আজ সকালে ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা আসছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আজ বেলা দুইটায় স্থানীয় একটি হোটেলে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তিনটায় সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে দেখা করবেন ভারতের স্বরাষ্ট্রসচিব। বাংলাদেশের পক্ষে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে নেতৃত্ব দেবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন। এ কমিটিতে থাকবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ, বিজিবি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, ইমিগ্রেশন এবং ভূমি জরিপ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

আগামীকাল মঙ্গলবার সকালে বৈঠকে বসবেন দুই দেশের স্বরাষ্ট্রসচিব। দুই দিনের বৈঠকে ভারতের কারাগারে বন্দী বাংলাদেশি সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ও সুব্রত বাইনসহ অন্যদের প্রত্যর্পণের বিষয়টিও আলোচনা হবে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর মোকাবিলায় সহযোগিতার ক্ষেত্র বিস্তৃত করা, জঙ্গি সংগঠনগুলোর ঘাঁটি ভেঙে দেওয়াসহ মোট ১৯টি বিষয়ে আলোচনা করা হবে। স্থলসীমান্ত চুক্তি ও সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার বিষয় নিয়েও আলোচনা হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. মোজাম্মেল হক খান জানান, ‘এ বৈঠকের আগেই বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিষ্পন্ন হয়েছে। এবার আমরা বাকি অনিষ্পন্ন অথচ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করব। এর মধ্যে সীমান্তে হত্যা, মাদক, মানব পাচার ও সন্ত্রাসবাদের মতো বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে।’ তিনি বলেন, দুই দেশের অভ্যন্তরীণ এবং সীমান্ত সমস্যা অভিন্ন বলে দুই দেশের সহযোগিতা ছাড়া এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এ বিষয়ে দুই দেশই একমত।