১৬ নভেম্বর দুদেশের সচিব পর্যায়ের বৈঠক

656

রোজিনা ইসলাম | নভেম্বর ১৩, ২০১৫ | English Version

ভারতে আটক শীর্ষ সন্ত্রাসী, দাগি আসামি, এক বিএনপি নেতাসহ আটজনকে ফিরিয়ে দিতে প্রস্তাব করবে বাংলাদেশ। ১৬ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠেয় ভারত ও বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠকে এই আসামিদের ফেরত চাইবে বাংলাদেশ।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, যাঁদের ফেরত চাওয়া হবে তাঁরা হলেন সুব্রত বাইন, মোল্লা মাসুদ, সাজ্জাদ হোসেন, সালাহ উদ্দিন আহমদ, ওয়াহিদুর জামান ও খান সুমন। আরও আছেন বিএনপির নেতা সালাহ উদ্দিন আহমদ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, সাজ্জাদসহ অন্য আসামিদের ফিরিয়ে দিতে তাঁরা ভারত সরকারের কাছে একাধিক চিঠি লিখেছেন। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো ইতিবাচক জবাব পাননি। তবে আকস্মিকভাবে অনুপ চেটিয়াকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আর ভারত গতকাল ফেরত পাঠিয়েছে নূর হোসেনকে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বলছে, অনুপ চেটিয়ার বিষয়টি এতটাই গোপনে করা হয়েছে যে যাঁরা এ নিয়ে কাজ করেন তাঁরাও জানতেন না। ওই সূত্র জানায়, অনুপ চেটিয়া অনেক দিন ধরেই যেতে চাচ্ছিলেন। কিন্তু যেহেতু ভারতে বাংলাদেশের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও দাগি আসামিরা আটক রয়েছেন, সেহেতু এ বিষয়টিকে তাঁরা গুরুত্ব দেননি।

ঢাকায় ১৬ নভেম্বর স্বরাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. মোজাম্মেল হক খান। ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব রাজীব ম​হর্ষি।

ভারতে থাকা চট্টগ্রামের আট খুন মামলার আসামি ও শিবিরের দুর্ধর্ষ ক্যাডার সাজ্জাদ হোসেন খানকে তিন বছরেও দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। তাঁকে ফিরিয়ে আনতে ২০১২ সাল থেকে ভারতকে সাতটি স্মারকে বহিঃসমর্পণ প্রস্তাব পাঠানো হলেও এত দিন পর এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানতে পেরেছে তাঁর জামিন হয়ে গেছে, নামও পাল্টে ফেলেছেন সাজ্জাদ। এ ছাড়া তিনি আরব আমিরাতের পাসপোর্টও ব্যবহার করছেন বলে জানা গেছে। আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন নেপাল থেকে ভারতে গেছেন। সুব্রত বাইনকে ফেরত পাঠাতে একাধিক চিঠি দেওয়া হলেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। আটকে আছে আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী মোল্লা মাসুদের বিষয়টিও।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, স্বরাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে বাংলাদেশি হত্যার বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া হবে। গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত স্বরাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠকে ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে তারা সীমান্তে হত্যা কমিয়ে দেবে, কম ক্ষতিকর অস্ত্র ব্যবহার করবে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে গত মার্চ মাস থেকে এ পর্যন্ত মোট ২৬ জনকে সীমান্তে হত্যা করা হয়েছে। এর জবাবে বিএসএফ বলেছে, কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশনায় গরু পাচার কমিয়ে আনার জন্যই ওই সব গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। তবে বাংলাদেশি একটি গ্রামে দুবার প্রবেশ করে বেসামরিক লোকজনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে বিএসএফের বিরুদ্ধে। এসব কারণে বৈঠকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বিএসএফের হাতে বাংলাদেশি হত্যার বিষয়টি প্রাধান্য পাবে।

এ ছাড়া বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফিরিয়ে আনা, মাদক চোরাচালান, মাছধরা ট্রলার, চলমান ছিটমহলের বাস্তবায়ন, সীমান্ত দিয়ে গরু চোরাচালান, সীমান্তবর্তী এলাকায় সন্ত্রাসী তৎপরতা ও বাংলাদেশিদের ভারতে অনুপ্রবেশের মতো বিষয়গুলো আলোচনায় প্রাধান্য পাবে।

জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মোজাম্মেল হক খান সচিব পর্যায়ের বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা ভারতে আটক আসামিদের ফেরত চাইবই। এ ছাড়া সীমান্তে হত্যার বিষয়টি জোরালো ভাবে আলোচনা হবে। একইভাবে ভারতের কাছ থেকে একই ধরনের প্রস্তাব আসতে পারে। এ ছাড়া দুই দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা করা হবে। আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে এখনো খসড়া পর্যায়ে।’

ভারতের পক্ষ থেকে যেটি বড় ইস্যু ছিল তা হচ্ছে অনুপ চেটিয়াকে ফেরত নেওয়া, সেটার সমাধান হয়েছে। এবার তারা সন্ত্রাস ও জঙ্গি দমন এবং সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করবে। এ ছাড়া ভারতীয় জাল রুপি চোরাচালান বন্ধে ঢাকা-দিল্লি গৃহীত পদক্ষেপগুলোর অগ্রগতি নিয়েও কথা হতে পারে। বাংলাদেশে থাকা সাবেক ভারতীয় ছিটমহলের নাগরিকদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ভারতে যেতে নাম তালিকাভুক্ত করান। কিন্তু এখন তাঁরা আর যেতে চান না। তাঁদের বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠকে আলোচনা হবে। ৩০ নভেম্বরের মধ্যে তালিকাভুক্তদের ভারতে যেতে হবে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ত্রিপুরা সীমান্তের কাছে সীমান্তচৌকি নির্মাণ বিষয়ে আলোচনার আগ্রহও প্রকাশ করা হয়েছে। এটি নিয়ে স্বরাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের গত বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র এ বিষয়ে জানিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে সরাসরি প্রবেশ সম্ভব নয় বলে চৌকি নির্মাণের জন্য ভারতের ভূমির ওপর দিয়ে কাঁচামাল ও শ্রমিক নেওয়ার অনুমতি চাওয়া হয়। সীমান্ত এলাকায় এ চৌকি নির্মাণে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবে বলে আশ্বস্ত করেছে ভারত।