লেখক–শিল্পীদের হুমকি, নিরাপত্তা দেওয়ার উদ্যোগ

994

   


 রোজিনা ইসলাম | ১১ নভেম্বর, ২০১৫  
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী শিক্ষক, সাংবাদিক, লেখক, ব্লগারসহ প্রগতিশীল ব্যক্তিদের নিরাপত্তা জোরদার করতে সরকারকে পরামর্শ দিয়েছে একটি গোয়েন্দা সংস্থা। ইতিমধ্যে কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি সরকারের কাছে নিরাপত্তা চেয়েছেন। সরকার তাঁদের নিরাপত্তামূলক সহায়তা দিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

গত এক সপ্তাহে কয়েকজন সৃজনশীল প্রকাশক, লেখক ও শিল্পী নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছেন। এঁদের কেউ কেউ সরাসরি দেখা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন। প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছেন, এমন একাধিক ব্যক্তি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরামর্শে সংশ্লিষ্ট থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। গত রোববার একজন শিল্পী সরাসরি দেখা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে নিরাপত্তা চেয়েছেন। তাঁর বাসার আশপাশে মোটরসাইকেল নিয়ে সন্দেহভাজন লোকজন ঘোরাফেরা করছেন এবং তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

লেখক-প্রকাশকদের হত্যায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে জানিয়ে গতকাল মঙ্গলবার ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামানসহ ৩৮ জন বুদ্ধিজীবী বিবৃতি দিয়েছেন।

সর্বশেষ গতকাল অধ্যাপক আনিসুজ্জামানকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। বিকেল ৪টা ৩৩ মিনিটে তাঁর মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্রে জানায়, একাধিক মন্ত্রীকেও তাঁদের মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়ে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে একজন মন্ত্রীর জন্য বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ১ নভেম্বর সময় প্রকাশনের স্বত্বাধিকারী ফরিদ আহমেদকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একে ‘উচ্চ ঝুঁকির হুমকি’ (হাই রিস্ক থ্রেট) হিসেবে দেখছে এবং তাঁকে সতর্কতার সঙ্গে চলার পরামর্শ দিয়েছে। ফরিদ আহমেদও নিরাপত্তা চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন।

জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের কাছে যাঁরা নিরাপত্তা চাইতে আসছেন বা এসেছিলেন, আমরা সবাইকে সহায়তা করছি। অনেকের বাসায় বা অফিসে অথবা ব্যক্তিগত চলাফেরার সময় নিরাপত্তার জন্য পুলিশ দেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে যাঁরাই আসছেন, তাঁদের জিডি করার পরামর্শ দিচ্ছি। তবে এসব হুমকি-ধমকিতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।’

গত সপ্তাহে দেওয়া একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে দেশের সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রগতিশীল ব্যক্তিদের নিরাপত্তা জোরদারের সুপারিশ করা হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর দণ্ড কার্যকর করাকে সামনে রেখে জামায়াত-শিবির ঢাকা মহানগরসহ সারা দেশে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার পরিকল্পনা করছে। তারা হামলার লক্ষ্য হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে সাংবাদিক, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকসহ প্রগতিশীল লেখক ও ব্লগারদের বেছে নিচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দলের বাইরে এই দুই নেতার ‘নিজস্ব কর্মী বাহিনী’ আছে। নেতাকে রক্ষা করার জন্য তারা যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটাতে পারে। উভয় নেতারই পাকিস্তান, মধ্যপ্রাচ্যসহ কয়েকটি দেশের প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। সে বিবেচনায় ‘জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে তাদের যোগাযোগ থাকার বিষয়টি বিবেচ্য’।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ঢাকা ও রংপুরে দুই বিদেশি নাগরিককে হত্যা, একই দিনে রাজধানীর শাহবাগে একজন প্রকাশককে কুপিয়ে হত্যা, লালমাটিয়ায় আরেক প্রকাশকসহ তিনজনকে হত্যার চেষ্টা, গাবতলীতে তল্লাশিচৌকিতে পুলিশ কর্মকর্তা হত্যা, পুরান ঢাকার হোসেনি দালানে গ্রেনেড হামলা, আশুলিয়ায় কুপিয়ে পুলিশ সদস্যকে হত্যা করা হয়। সর্বশেষ গতকাল রাজধানীর কচুক্ষেতে একজন মিলিটারি পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে

প্রথম আলো