তিন শর্তে টাকা দিতে সম্মত মন্ত্রণালয় : দায়–দেনায় জর্জরিত ডিএসসিসি

663

রোজিনা ইসলাম | নভেম্বর ০৫, ২০১৫

তিনটি শর্তে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে (ডিএসসিসি) বরাদ্দ দিতে রাজি হয়েছে মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে সরকারি ক্রয় নীতি (পিপিআর) অনুযায়ী যথাযথ প্রক্রিয়ায় উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান, সরেজমিনে পরীক্ষা করে প্রকল্পের সঠিক বাস্তবায়ন ও সিটি করপোরেশনের আর্থিক সংস্থান করতে পারলেই এ বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ব্যয়ের তুলনায় আয় কম থাকায় দায়-দেনায় জর্জরিত ডিএসসিসি। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে না পারায় প্রতিবছরই এই দায়-দেনার পরিমাণ বাড়ছে। এ অবস্থায় ৩৫০ কোটি টাকা চেয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগে উপ-আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছেন দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ হোসেন খোকন। একই সঙ্গে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফের সঙ্গে দেখা করে এই দায়-দেনা পরিশোধ করতে সহায়তা চেয়েছেন। অন্যথায় সিটি করপোরেশনের কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
মেয়রের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বুধবার ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে ফ্যাক্সযোগে পাঠানো তিনটি শর্তের কথা জানিয়ে বরাদ্দ দেওয়ার কথা জানানো হয়।
জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন প্রথম আলোকে বলেন, ‘কীভাবে এই সমস্যা দূর করা যায় তা আমরা চেষ্টা করছি। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আমাদের জানিয়েছেন, তিনি নিজেই নগর ভবনে আসবেন। কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সমস্যার কথা শুনে দ্রুত বিষয়গুলো সমাধান করবেন।’ এ ছাড়া যেসব দায়-দেনা রয়েছে তা দ্রুত শোধ করতে এবং করপোরেশনের আয় বাড়াতে স্থানীয় সরকার বিভাগের সঙ্গে মিলে কাজ শুরু করা হয়েছে বলে জানান মেয়র।
স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো চিঠিতে মেয়র জানান, বর্তমানে চলমান ও শেষ হওয়া উন্নয়ন প্রকল্প, সরকারি কাজের ঠিকাদার ও সরবরাহকারীদের বিল অর্থাভাবে পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। বকেয়া পরিশোধ ছাড়া করপোরেশনের নিয়মিত সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রেখে নতুন কোনো উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। নগরবাসীর প্রত্যাশা পূরণে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।
চিঠিতে আরও জানানো হয়, ঢাকা সিটি করপোরেশন বিভক্ত হওয়ার কারণে ডিএসসিসির আয় কম, ব্যয় অনেক বেশি। এদিকে আয় কম হলেও নাগরিক সেবা অব্যাহত রাখতে প্রতিবছর অনেক টাকা ব্যয় করতে হয়।
ডিএসসিসি সূত্র জানায়, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাসিক বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে প্রয়োজন হয় প্রায় ১১ কোটি টাকার। কিন্তু এক মাসে কোনো খাত থেকেই ডিএসসিসির এই পরিমাণ অর্থ আয় হয় না। করপোরেশন বিভক্ত হওয়ার পর থেকে এই ব্যয় বাড়তে থাকায় আর্থিক সংকটে পড়ে স্বায়ত্তশাসিত এই সংস্থাটি। ২০১২ সালের মে মাসের পর থেকেই অর্থসংকটে ডিএসসিসি।
ডিএসসিসির দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, দক্ষিণ সিটির আওতায় আছে মন্ত্রীপাড়া, একাধিক পার্ক, সরকারি হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এসব কিছু থেকে তেমন কোনো কর বা খাজনা পাওয়া যায় না। উত্তর সিটির সম্পত্তি হস্তান্তর খাতে আয় হয় বছরে কমপক্ষে ১০০ কোটি টাকা। কিন্তু এই খাতটিতে দক্ষিণের আয় মাত্র ৩০-৩৫ কোটি টাকা। ফলে স্বাভাবিক কারণেই এখানে অর্থসংকট ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ রেলওয়ে, হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদসহ বেশ কয়েকটি বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রায় ১০০ কোটি টাকার হোল্ডিং ট্যাক্স পাওনা রয়েছে।