৫৮ ট্রাফিক পুলিশের চাঁদাবাজি

674

রোজিনা ইসলাম | নভেম্বর ০৩, ২০১৫

Bribing a policeman.
Bribing a policeman.

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের ৫৮ জন সদস্য চাঁদাবাজি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এঁরা প্রত্যেকে দিনে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা নেন। সম্প্রতি একটি গোয়েন্দা সংস্থা থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে এই অভিযোগ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, এঁদের চাঁদাবাজির প্রধান শিকার রাস্তায় চলাচল করা অটোরিকশা।
রাস্তার চাঁদাবাজি নিয়ে কথা বলতে গেলে অন্তত তিনজন পুলিশ সার্জেন্ট নিয়মিত চাঁদা নেওয়ার কথা প্রথম আলোর এই প্রতিবেদকের কাছে স্বীকার করেছেন। তবে ট্রাফিক পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই অভিযোগ মানতে চাননি।
জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের দক্ষিণ উপকমিশনার খান মোহাম্মদ রেজওয়ান বলেন, ‘আমাদের কাছে এই বিষয়ে একটি প্রতিবেদন এসেছে। কিন্তু আমরা এই নিয়ে তেমন কিছু পাইনি।’
ওই প্রতিবেদনে ৫৮ জন পুলিশ সদস্যের নাম, এলাকার নাম, সপ্তাহে ও মাসিক কত চাঁদা নেন তা উল্লেখ করে বলা হয়, পুলিশ বিভিন্ন রুটে চলা সিএনজি অটোরিকশা থেকে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে চাঁদা নেয়। পরিবহন সেক্টরের বিভিন্ন সমিতিও এর সঙ্গে জড়িত আছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকা মহানগর ট্রাফিক বিভাগে মোট চারটি বিভাগ আছে। চার বিভাগের রুটে দুই ধরনের অটোরিকশা চলাচল করে। একটি হলো বেসরকারি, অন্যটি সাধারণ সিএনজিচালিত অটোরিকশা। সিএনজিচালিত যেসব বেসরকারি অটোরিকশা ঢাকার ভেতরে যাত্রী পরিবহন করে, সেসব অটোরিকশাকে চাঁদা দিতে হয়।
প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, ঢাকার বাইরে থেকে যেসব অটোরিকশা রাজধানীতে আসে সেগুলোর প্রায় ৩০ শতাংশের মালিক ট্রাফিক পুলিশের সদস্য। ঢাকার বাইরে থেকে আসা যেকোনো অটোরিকশা ঢাকায় প্রবেশ করতে হলে ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা লেনদেন করতে হয়। এরপরই সেই অটোরিকশার চলাচলের অনুমতি মেলে। একেকটি অটোরিকশাকে এ জন্য ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা দিতে হয়।
এতে বলা হয়, রাস্তা থেকে রেকার দিয়ে গাড়ি টেনে নেওয়া নিয়েও বাণিজ্য করে ট্রাফিক পুলিশ। রাজধানীর উত্তর-দক্ষিণ ও পূর্ব-পশ্চিম বিভাগে ৩৩টি রেকার আছে। এর মধ্যে পুলিশের নিজস্ব রেকার আছে মাত্র পাঁচটি, বাকি ২৮টি বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া। এসব রেকার দিয়ে একটি ছয় চাকার বড় গাড়ি টেনে নিলে গাড়ির মালিককে দুই হাজার টাকা দিতে হয়। সেই হিসাবে মাইক্রোবাস দেড় হাজার টাকা, সিএনজি অটোরিকশার জন্য বারো শ টাকা দিতে হয়। পুলিশের নিজস্ব রেকার এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে চুক্তিভিত্তিক নেওয়া রেকার এসব গাড়ির টাকা ভাগাভাগি করে নেয়। এই টাকার একটি অংশ ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারাও পেয়ে থাকেন বলে অভিযোগ আছে। এ কারণে কখনো কখনো অযথা গাড়িতে রেকার লাগানো হয় বলে অভিযোগ আছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চাঁদাবাজির জন্য ট্রাফিক পুলিশের অসাধু সদস্যরা পুরো এলাকাকে ১৩টি অঞ্চলে ভাগ করেছে। এগুলো হলো: মোহাম্মদপুর-আদাবর, ধানমন্ডি, মিরপুর-১, রমনা, কোতোয়ালি, নিউমার্কেট, বাংলা মোটর-শাহবাগ, মৌচাক, গুলশান-বাড্ডা-বনানী, খিলক্ষেত-উত্তরা, যাত্রাবাড়ী, ডেমরা এবং শ্যামপুর, গেন্ডারিয়া-সূত্রাপুর।
এসব অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের পূর্ব উপকমিশনার মাইনুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, এসব বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে দেখেছি। তবে আমাদের কাছে এখনো কোনো গোয়েন্দা প্রতিবেদন আসেনি।
তবে ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের দক্ষিণ উপকমিশনার খান মোহাম্মদ রেজওয়ান বলেন, ‘আমাদের কাছে এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন এসেছে, আমরা আমাদের অংশ তদন্ত করে দেখেছি।’