নিম্নমানের গম আমদানির প্রস্তাব খারিজ, প্রশ্নের মুখোমুখি খাদ্য মন্ত্রণালয়!

797

রোজিনা ইসলাম | অক্টোবর ১২, ২০১৫

ব্রাজিলের নিম্নমানের গম নিয়ে তীব্র সমালোচনার পর এবার খাদ্য মন্ত্রণালয়ের একই ধরনের গম কেনার প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। কমিটি জানিয়ে দিয়েছে, কোনোভাবেই নিম্নমানের গম গ্রহণ করা যাবে না। এ জন্য গম আমদানির ক্ষেত্রে বিনির্দেশও (স্পেসিফিকেশন) বদলাতে বলেছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গম নিম্নমানের হলে জরিমানা করা যাবে—এমন শর্ত রেখে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে ৫০ হাজার মেট্রিক টন গম কেনার প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার কমিটিতে পাঠায় খাদ্য মন্ত্রণালয়।
গম আমদানির বিনির্দেশে গম কিছুটা নিম্নমানের হলে তা জরিমানা দিয়ে গ্রহণ করার বিধান ছিল। ক্রয় কমিটি এ ক্ষেত্রে ওই জরিমানার বিধানটাই বদলে ফেলে খাদ্য আমদানি নীতিমালা সংশোধন করতে খাদ্য অধিদপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছে। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ব্রাজিল থেকে নিম্নমানের গম আমদানি নিয়ে সমালোচনার পর কিছুদিন আগেই খাদ্য অধিদপ্তর গম আমদানির ক্ষেত্রে বিনির্দেশ বদলায়। তাতে গম নিম্নমানের হলে জরিমানার পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়।
এ ব্যাপারে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফয়েজ আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘জরিমানার বিধান বাতিল করে আমরা খাদ্য আমদানির নতুন বিনির্দেশ তৈরি করেছি। আগে গম আমদানির ক্ষেত্রে শর্ত বা বিনির্দেশের চেয়ে নিম্নমানের গম এলে তা জরিমানা দিয়ে খালাসের বিধান ছিল। নতুন নিয়মে নিম্নমানের হলে তা আর গ্রহণ করা হবে না। ফেরত দেওয়া হবে।’
কিন্তু মন্ত্রিপরিষদের সভায় কমিটির সদস্যরা জানান, ২০০৮ সালের পিপিআর অনুযায়ী বিনির্দেশ অনুসারে পণ্য, কার্য বা সেবা বুঝে নিতে হয়। এ ক্ষেত্রে নিম্নমানের সরবরাহ গ্রহণের সুযোগ নেই।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, নতুন আদেশে আমদানি করা গমের ‘টেস্ট ওয়েট’ ৭৬ কেজি নির্ধারণ করা হলেও জরিমানা দিয়ে সরবরাহকারীরা ৭৫ কেজি টেস্ট ওয়েটের গমও সরকারকে সরবরাহ করতে পারবে। গমে সাড়ে ১২ শতাংশ প্রোটিন থাকতে হবে, কিন্তু ১২ শতাংশ প্রোটিন হলেও গম গ্রহণ করবে খাদ্য অধিদপ্তর। এমন স্পেসিফিকেশনে ৫০ হাজার টন গম আমদানির প্রস্তাব মন্ত্রিসভা কমিটিতে উপস্থাপন করা হলে তাতে সায় মেলেনি। মন্ত্রিসভা কমিটি খাদ্য অধিদপ্তরকে জানিয়েছে, গমের টেস্ট ওয়েট ৭৬ কেজিই এবং প্রোটিনের উপস্থিতিও সাড়ে ১২ শতাংশ হতেই হবে। এর চেয়ে কমে গ্রহণ করা হবে না।
কমিটি খাদ্য আমদানি-সংক্রান্ত যে নীতিমালা রয়েছে তা পরীক্ষা করে যথাযথ সংশোধন, পরিমার্জন করে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার কমিটির বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করার নির্দেশ দিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়কে।
খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, নতুন স্পেসিফিকেশনে আমদানি করা গমে ক্ষতিগ্রস্ত দানা ৩ শতাংশ পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য। আর ৩ শতাংশের মধ্যে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ পোকায় খাওয়া দানা গ্রহণযোগ্য। আগের স্পেসিফিকেশনে ক্ষতিগ্রস্ত দানা সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য ছিল। পুরোনো স্পেসিফিকেশনে পোকায় খাওয়া গমের কোনো উল্লেখ না থাকলেও ৩ শতাংশ পর্যন্ত পোকায় খাওয়া গম সরবরাহের সুযোগ ছিল। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, কোনো আন্তর্জাতিক টেন্ডারে এই প্রথম পোকায় খাওয়া গম নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। এর আগে যত টেন্ডার আহ্বান করা হয়, তার কোনোটিতেই পোকায় খাওয়া গম নেওয়ার শর্ত ছিল না।
খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে আরও জানা গেছে, ৫০ হাজার টন গম কেনা-সংক্রান্ত দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি ৩০ আগস্ট চারটি প্রতিষ্ঠানকে যোগ্য দরদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঘোষণা করে। তাদের মধ্যে মেসার্স দাইয়্যু ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন প্রতি টন গমের দাম ২৩৫ ডলার উল্লেখ করে সর্বনিম্ন দরদাতা নির্বাচিত হয়। সর্বনিম্ন দরদাতার কাছ থেকে ৫০ হাজার টন গম কিনতে ৯২ কোটি ৮২ লাখ ৫০ হাজার টাকা লাগবে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে জানিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।