কামরুলকে ফেরত আনা হচ্ছে পুশইন পুশব্যাক প্রক্রিয়ায়

655

নূর হোসেনের বিষয়ে অগ্রগতি নেই

শিশু শেখ সামিউল আলম রাজন হত্যা মামলার প্রধান আসামি কামরুল ইসলামকে ফিরিয়ে আনতে পুলিশের তিন কর্মকর্তা সৌদি আরব যাচ্ছেন। তাঁকে পুশইন-পুশব্যাক প্রক্রিয়ায় ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।
তবে নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনকে ভারত থেকে দেশে ফেরত আনার বিষয়ে এখনো অগ্রগতি নেই। তাঁকে ফিরিয়ে আনতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বারবার তাগাদাপত্র দিলেও এ বিষয়ে জবাব পাওয়া যায়নি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল গতকাল বুধবার প্রথম আলোকে বলেন, কামরুল ইসলামকে সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরত দেওয়ার ব্যাপারে সৌদি সরকার সম্মত হয়েছে। নূর হোসেনকেও যেকোনো সময় দেশে ফেরত আনা হবে। তিনি বলেন, ‘প্রথম থেকেই নূর হোসেনকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনতে আমরা ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি। ইতিমধ্যে চিঠি দিয়ে এ বিষয়ে তাগাদা দেওয়া হয়েছে।’
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলেছে, সিলেটে শিশু সামিউল আলম রাজন হত্যা মামলার প্রধান আসামি কামরুলকে ফিরিয়ে আনতে ১২ অক্টোবর সৌদি আরব যাবেন পুলিশের তিনজন কর্মকর্তা।
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক প্রথম আলোকে বলেন, কামরুলকে পুশব্যাক-পুশইন প্রক্রিয়ায় ফেরত আনা হচ্ছে। সৌদি সরকার কামরুলের ভিসা বাতিল করবে, এরপর তাঁকে এসকর্ট (পাহারা) দিয়ে ফেরত আনবেন বাংলাদেশের তিন পুলিশ কর্মকর্তা। সৌদি সরকার এসকর্ট চেয়েছে বলে তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে সেখানে পাঠানো হচ্ছে।
গত ৮ জুলাই শিশু রাজনকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ হত্যা মামলায় ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। এর মধ্যে ১০ জনকে আগেই গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার দুই দিন পর প্রধান আসামি কামরুল জেদ্দায় পালিয়ে যান। প্রবাসী বাংলাদেশিরা সেখানে তাঁকে আটক করে সৌদি পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো বলেছে, কামরুলকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মন্ত্রণালয় সৌদি আরব সরকারের কাছে পূর্ণাঙ্গ বহিঃসমর্পণ প্রস্তাব পাঠায়। ওই প্রস্তাবের সঙ্গে এজাহারের অনুলিপি, গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কপি, ইন্টারপোলের রেড নোটিশের কপিসহ কোন আইনে তাঁর বিচার করা হতে পারে, সে-সংক্রান্ত মোট ৩২ পৃষ্ঠার কাগজপত্র পাঠানো হয়।
বর্তমানে রাজন হত্যা মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে।
মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বলেছে, নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলার আসামি নূর হোসেনকে দেশে ফেরত পাঠাতে ভারতকে তাগিদ দিয়ে চিঠি দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখা। চিঠিতে বলা হয়েছে, নূর হোসেনকে ভারতের সুবিধামতো তারিখ ও সময়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ মণ্ডলের কাছে হস্তান্তর করা যেতে পারে। হস্তান্তর-গ্রহণের কার্যক্রম যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে হতে পারে। নিয়মানুযায়ী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এ চিঠি পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের উপসচিব শফিকুর রহমানের স্বাক্ষর করা ওই চিঠি প্রথমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালকের (দক্ষিণ এশিয়া) কাছে পাঠানো হয়। পরে তা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারত সরকারের কাছে পাঠায়। এর আগেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কয়েকবার নূর হোসেনকে ফেরত দেওয়ার তাগিদ দিয়ে ভারতে চিঠি পাঠানো হয়।
গত বছরের ১৮ আগস্ট ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বাগুইহাটি থানার পুলিশ নূর হোসেন ও তাঁর দুই সঙ্গীর বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশের মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করে। গত ডিসেম্বরে নূর হোসেনকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে প্রস্তুত বলে জানায় ভারত। ওই সময় জানানো হয়, বাংলাদেশ চাইলে যেকোনো দিন নূর হোসেনকে হস্তান্তর করা হবে। এরপর তাঁকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করে সরকার। তাঁকে কোথায়, কখন গ্রহণ করা হবে, সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সদর দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়।
গত বছরের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনার পর নূর হোসেন ভারতে পালিয়ে যান। ওই বছরের ১৪ জুন কলকাতায় গ্রেপ্তার হন নূর হোসেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, ভারতে নূর হোসেনকে গ্রেপ্তারের পর থেকে তাঁর বিরুদ্ধে হওয়া মামলার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, তদন্ত প্রতিবেদনসহ ‘অনুরোধপত্র’ ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে পাঠানো হয়।
গত বছরের ৭ অক্টোবর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রস্তাবিত বহিঃসমর্পণ চুক্তি অনুসমর্থনের প্রস্তাব অনুমোদন করে মন্ত্রিসভা। ফৌজদারি মামলায় বিচারাধীন বা দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি বিনিময়ের সুযোগ রেখে এ চুক্তি করা হয়। এর ফলে বাংলাদেশ ও ভারত নিজেদের মধ্যে বন্দী বিনিময় করতে পারবে। এর আগে ২০১১ সালে অনুমোদন করা হয় দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের হস্তান্তর চুক্তি (টিএসপি)। তবে এসব চুক্তির আওতায় এখনো কোনো আসামি বা বন্দীকে ফেরত আনা হয়নি।