ঢাকায় নিবন্ধিত রিকশা ৮০ হাজার!

554

রোজিনা ইসলাম | অক্টোবর ০৫, ২০১৫

মেয়র আনিসুল হক ঢাকা উত্তর সিটি
মেয়র আনিসুল হক ঢাকা উত্তর সিটি

মেয়র আনিসুল হক ঢাকা উত্তর সিটিনবায়ন বা রিকশা নিবন্ধন না হওয়ার কারণে সরকার যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি রাস্তায় যানজট বাড়ছে ‘রিকশাগুলো মালিকপক্ষ ও সরকারি দলের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনের সিল মারা। পুলিশের সঙ্গে সংগঠনের নেতাদের যোগাযোগ আছে’


ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন গত তিন বছর রিকশার নিবন্ধন নবায়ন করেনি। ১৯৮০ সালের পর থেকে নতুন রিকশার নিবন্ধনও দেওয়া হয়নি। ওই সময় নিবন্ধিত রিকশার সংখ্যা ছিল ৮০ হাজার। আর এখন রাজধানীতে চলাচলকারী রিকশার সংখ্যা এর বহুগুণ বেশি। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয় এ সংখ্যা ১০ লাখের বেশি।

মেয়র সাঈদ খোকন ঢাকা দক্ষিণ সিটিঢাকার দুই মেয়রই বলছেন, অবৈধ রিকশার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা তাঁরা ভাবছেন।
সিটি করপোরেশনের বাজেট পর্যালোচনা-সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিকশার নিবন্ধন ফি আদায় করে প্রতি অর্থবছরে নির্ধারিত অঙ্কের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হলেও ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত কোনো বছরেই এ খাত থেকে অর্থ আদায় করা হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, রিকশার নিবন্ধন নবায়ন না করে সিটি করপোরেশন শুধু রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়নি, বরং নগরে রিকশা চলাচলের ক্ষেত্রে এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার সচিব আবদুল মালেক প্রথম আলোকে বলেন, ‘সিটি করপোরেশনে এখন মেয়ররা এসেছেন, তাঁরা এ বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেবেন বলে আশা করি।’
কিছু কিছু সড়কে রিকশা বন্ধ করা হবে এবং অবৈধ রিকশার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে

মেয়র সাঈদ খোকন ঢাকা দক্ষিণ সিটি
মেয়র সাঈদ খোকন ঢাকা দক্ষিণ সিটি

রাজধানী বিভিন্ন এলাকায় ‘ঢাকা বিভাগ রিকশা ও ভ্যান মালিক সমিতি’, ‘বাংলাদেশ রিকশা ও ভ্যান মালিক ফেডারেশন’, ‘রিকশা ও ভ্যান মালিক শ্রমিক লীগ’, ‘মহানগর রিকশা মালিক লীগ’, ‘জাতীয় শ্রমিক লীগ’, ‘মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদ’সহ বিভিন্ন নামে রিকশার পেছনে ক্রমিক নম্বরসংবলিত নম্বর প্লেট দেখা যায়। এসব ক্রমিক নম্বর কোনো নিবন্ধন নম্বর নয়, কোনো রিকশা যেন চুরি ও হারিয়ে না যায়, সে জন্য এসব নম্বর দেওয়া হয়ে থাকে। এসব সংগঠনের নেতাদের দাবি, সিটি করপোরেশনের কাছে অনেক দিন থেকেই রিকশার নিবন্ধন দেওয়ার জন্য আবেদন জমা দেওয়া রয়েছে। কিন্তু সেসব আবেদনের বিষয়ে সিটি করপোরেশন কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি।
বাংলাদেশ রিকশা-ভ্যান মালিক শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীতে নিবন্ধিত বৈধ রিকশার সংখ্যা ৭৯ হাজার ৬০০। এ ছাড়া সিটি করপোরেশনের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী তাদের আরও ৪৩ হাজার রিকশা ও ভ্যান চলাচল করছে; যা নিবন্ধিত নয়। ২০০১ সালে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে ৩৫ হাজার রিকশা ও আট হাজার ভ্যানের নিবন্ধনের বিষয়ে তাদের একটি চুক্তি হয়। কিন্তু বিভিন্ন জটিলতার কারণে এ চুক্তি বাস্তবায়িত হয়নি। এসব রিকশা ও ভ্যানের জন্য সিটি করপোরেশনও কোনো টাকা নেয়নি।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক এ বিষয়ে বলেন, ‘অবৈধ রিকশা তুলে দেওয়া যায় কি না, আমরা সে ব্যাপারে ভাবছি। এ ছাড়া নবায়নের বিষয়েও আমরা দ্রুত সিদ্ধান্ত নেব। নবায়ন বা রিকশা নিবন্ধন না হওয়ার কারণে সরকার যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি রাস্তায় যানজট বাড়ছে।’
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, ‘বিভিন্ন সমিতি বিভিন্ন নামে এসব রিকশা পরিচালনা করছে, রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সিটি করপোরেশন। এ বিষয়ে দ্রুত কী করা যায়, তা নিয়ে আমরা আলোচনা করছি, তবে কিছু কিছু সড়কে রিকশা বন্ধ করা হবে এবং অবৈধ রিকশার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানান, দুই সিটি করপোরেশনের সিদ্ধান্ত হলো, রাজধানীতে নতুন আর কোনো রিকশার নিবন্ধন দেওয়া হবে না। অবৈধ রিকশাকে নগরের বিভিন্ন পাড়া ও অলিগলিতে চলাচল করতে রিকশাচালকদের বাধ্য করা হবে। বাসাবোর হেলাল মিয়ার গ্যারেজে প্রায় ১৭০টি রিকশা রয়েছে। কিন্তু কোনোটারই ঢাকা সিটি করপোরেশনের নিবন্ধন নেই। তবে প্রতিটি রিকশায় একটি করে নম্বর প্লেট আছে। গ্যারেজের ব্যবস্থাপক আলাউদ্দিন আলী বলেন, রিকশাগুলো মালিকপক্ষ ও সরকারি দলের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনের সিল মারা। পুলিশের সঙ্গে সংগঠনের নেতাদের যোগাযোগ আছে। কোনো সমস্যা হয় না।
পল্টনের একটি রিকশার গ্যারেজে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ২৩০টি রিকশা রয়েছে। বেশির ভাগ রিকশারই ডিসিসির নিবন্ধন নেই। সেখানেও প্রতিটি রিকশায় সিল মারা দেখা গেছে। জানা গেছে, প্রতিটি রিকশার জন্য মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে তিন মাসের জন্য ৮০ টাকা করে নেওয়া হয়। সঙ্গে একটি টিনের তৈরি পরিচয়পত্র (যাকে বলে কার্ড) রিকশায় লাগিয়ে দিয়ে সেখানে একটি সিল মারা হয়। তিন মাস পর আবার নতুনভাবে নিবন্ধন নেওয়া হয়। পুলিশ সেটি দেখলে ছেড়ে দেয়।