মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল: বেতন বন্ধ ১০৪ কর্মচারীর চাকরি হারানোর শঙ্কা

785

রোজিনা ইসলাম | সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৫

নীতিমালা লঙ্ঘন করে দুই কোটি টাকা ব্যয় করার অভিযোগে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলকে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণের জন্য সরকারি হাটবাজারের ইজারা থেকে বরাদ্দ দেওয়া দুই কোটি টাকা সঠিক খাতে ব্যবহার করা হয়নি বলে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এই প্রতিবেদন পাওয়ার পর বরাদ্দ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে ১০৪ জন কর্মচারী, যে যেখানে কাজ করছেন, সবারই বেতন-ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখন তাঁদের আর চাকরি থাকবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কিত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

নীতিমালা অনুযায়ী, দুস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের গৃহনির্মাণ, সংস্কার, চিকিৎসা, শিক্ষা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও কন্যাসন্তানের বিয়েতে হাটবাজারের ইজারা থেকে পাওয়া বরাদ্দ থেকে ৪ শতাংশ টাকা ব্যয় হওয়ার কথা। কিন্তু কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল নীতিমালা অনুসরণ না করে যাতায়াত, আপ্যায়ন, প্রিন্টিং, গাড়ি মেরামত বাবদ দুই কোটি টাকা ব্যয় করেছে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা অর্থ মন্ত্রণালয়ে দুই কোটি বরাদ্দ চেয়ে আধা সরকারি পত্র পাঠিয়েছি। বরাদ্দ পেলে এই কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হবে। এরপর এই কর্মচারীদের নিয়ে কী করা হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ।’ তিনি বলেন, কয়েক বছর ধরেই এ খাতের ব্যয় নিয়ে নিরীক্ষা আপত্তি আসছে। নীতিমালা লঙ্ঘন করে তো তাদের বরাদ্দ দেওয়া যায় না।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হেলাল মোরশেদ খান প্রথম আলোকে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এই টাকা ব্যয় করা হয়েছে। কিন্তু মন্ত্রণালয় হঠাৎ করে বরাদ্দ বন্ধ করে দেওয়ায় সাত মাস ধরে ১০৪ জন কর্মচারী বেতন পাননি। গত ঈদেও বেতন-বোনাস দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে বেতন-ভাতা পরিশোধ করার চেষ্টা চলছে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভুক্তভোগী কর্মচারীরা জানিয়েছেন, ২০০২ সালে এই মন্ত্রণালয় গঠনের পর জনবল কম থাকায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ থেকে লোক চাওয়া হয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে সেখান থেকে এই কর্মচারীদের প্রেষণে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাঁদের কেউ কেউ শুরু থেকে, আবার কেউ তিন বছর আগে থেকে মন্ত্রণালয়ে কাজ করছেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন হাটবাজার ইজারা থেকে আয়ের ৪ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হতো মুক্তিযোদ্ধা সংসদকে। সংসদ ওই টাকায় কর্মচারীদের বেতন দিত। ২০০৮ সালে বরাদ্দ কমিয়ে ২ শতাংশ করা হয়। আর এখন হঠাৎ করে বেতন-ভাতা বন্ধ, এরপর মুক্তিযোদ্ধা সংসদে ফেরত পাঠানো এবং সবশেষে চাকরি যাওয়ার দুশ্চিন্তা কর্মচারীদের বিমর্ষ করে ফেলেছে।