দুই সিটি করপোরেশনের রাজস্ব আদায় মাত্র ৫৫ শতাংশ: কর দিতে ও নিতে সমান অনীহা

614

রোজিনা ইসলাম | সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৫

গত অর্থবছরে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৫৫ শতাংশ রাজস্ব আদায় করতে পেরেছে। এ জন্য আদায়কারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নেতিবাচক মনোভাব এবং নাগরিকদের কর প্রদানে অনীহাকে দায়ী করেছে দুই সিটি করপোরেশন।
দুই সিটি করপোরেশন থেকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো প্রতিবেদনে এসব বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮১০ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। কিন্তু আদায় হয়েছে ৪৬২ কোটি ১২ লাখ টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার ৫৬ শতাংশ। আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬১৮ কোটি ২১ লাখ টাকা। আদায় হয়েছে ৪৬২ কোটি ১২ লাখ টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার ৫৭ শতাংশ।
এতে বলা হয়, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে একই ধরনের ২৫টি উৎস থেকে রাজস্ব আদায় হয় এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে আরও তিনটি উৎস থেকে রাজস্ব আদায় হয়। উৎস এক হলেও তা থেকে দুই সিটি করপোরেশনের রাজস্ব আদায়ের পরিমাণে পার্থক্য আছে।
ডিএনসিসি বাজার সেলামি থেকে ১৬০ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য থাকলেও আয় হয়েছে ১৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এর চেয়ে খারাপ অবস্থা ডিএনসিসির বাজার ভাড়া আদায়ে। লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৩ শতাংশ বাজার ভাড়া আদায় করতে পেরেছে ডিএনসিসি। মহামান্য হাইকোর্টে মামলা ও নিষেধাজ্ঞা থাকায় বাজার ভাড়া আদায় করা যাচ্ছে না বলে ডিএনসিসি ব্যাখ্যা দিয়েছে।
দুই সিটি করপোরেশনের হোল্ডিং কর আদায়ের লক্ষ্য ছিল ৬৬৫ কোটি টাকা। কিন্তু আদায় হয়েছে ৩৭২ কোটি টাকা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর পর্যালোচনা পরিষদ, বিভাগীয় কমিশনার কোর্ট, সার্টিফিকেট মামলা, সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিকট পাওনা এবং বিভিন্ন আদালতে দুই সিটি করপোরেশনের ১৯৩ কোটি টাকার মামলা চলমান আছে।
ডিএসসিসি তার নিয়ন্ত্রণাধীন কমিউনিটি সেন্টারগুলো থেকে পাঁচ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করলেও আদায় হয়েছে ৮২ লাখ টাকা। দুই সিটি করপোরেশনই বলেছে, বেসরকারি কমিউনিটি সেন্টারের তুলনায় করপোরেশনের হলের ভাড়া অত্যন্ত কম। বেসরকারি কমিউনিটি সেন্টারের তুলনায় সিটি করপোরেশনের সেন্টারগুলো জরাজীর্ণ ও পুরোনো বলেও রাজস্ব আদায় কম হয়।
অনাদায়ি অনেক খাত নিয়ে মামলা থাকায় রাজস্ব আদায় কম হয়েছে বলে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। এ ছাড়া রাজস্ব আদায়ে ব্যর্থতার জন্য লোকবলের অভাব, আদায়কারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রাজস্ব আদায় সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব, নাগরিকদের কর প্রদানে অনিচ্ছা এবং দেখভালের অভাবকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
রাজস্ব আদায় বাড়াতে কর আদায়ে অটোমেশন ব্যবস্থা চালু, সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাওনা পরিশোধের জন্য তাদের তাগিদপত্র দেওয়া, জব্দ পরোয়ানার মাধ্যমে বকেয়া রাজস্ব আদায়ে ব্যবস্থা নেওয়া, ভাড়া আদায়ে দোকানদারদের সঙ্গে বিরোধ আমলে না নিয়ে ট্রেড লাইসেন্স এবং ভাড়া আদায়ে কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ডিএনসিসির প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মো. মমতাজ উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি হবে। রাজস্ব আদায় বাড়াতে নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে মাসিক ভিত্তিতে কাজ করা হচ্ছে। তবে লোকবলের সংকট আমাদের জন্য বড় সমস্যা।’