অভিযুক্ত এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে এবার উন্মুক্ত তদন্ত হবে

628

রোজিনা ইসলাম | আগস্ট ২৮, ২০১৫

ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে মানব পাচারের অভিযোগ ওঠা ওমরাহ এজেন্সিগুলোর বিষয়ে এবার উন্মুক্ত তদন্ত হবে। তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হওয়া এজেন্সিগুলোকে কালো তালিকাভুক্ত ও এগুলোর লাইসেন্স বাতিল করা হবে।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ শাখা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ অভিযোগ তদন্তের জন্য ইতিমধ্যে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে ১০৩টি এজেন্সির বিরুদ্ধে। ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১ ও ৩ সেপ্টেম্বর বায়তুল মোকাররম মসজিদের ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে এসব এজেন্সির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত করবে এই কমিটি। তদন্তে অভিযুক্ত সব এজেন্সির প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়ে গত বুধবার ও গতকাল বৃহস্পতিবার চিঠি দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলেছে, এবারের ওমরাহ হজ মৌসুমে ওমরাহ ভিসা নিয়ে সৌদি আরবে যাওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে ১১ হাজার ৪৮৫ জন ওই ভিসার মেয়াদ শেষে দেশে ফেরেননি। ওমরাহ ভিসায় গিয়ে ফিরে না আসার সংখ্যা এটিই এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ। বিষয়টি সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ চিঠি দিয়ে বাংলাদেশকে জানিয়েছে এবং যেসব এজেন্সির মাধ্যমে এ মানব পাচার হয়েছে, সেগুলোর তালিকাও পাঠিয়েছে। এ কারণে গত ২২ মার্চ থেকে সৌদি আরব বাংলাদেশিদের ওমরাহ ভিসা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ বলেছে, ওমরাহ ভিসায় গিয়ে সে দেশে থেকে যাওয়া বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে না নিলে এবং অভিযুক্ত এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে বাংলাদেশিদের ওমরাহ ভিসা দেওয়া পুনরায় চালু করা হবে না।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই তালিকা অনুযায়ী এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে মন্ত্রণালয়। সূত্র বলেছে, অভিযুক্ত এজেন্সিগুলোর কয়েকটির বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে শুনানিও হয়েছে। তবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে তদন্ত কমিটি করে উন্মুক্ত তদন্ত করার সিদ্ধান্ত হয়।

Untitled

এজেন্সিগুলোতে পাঠানো মন্ত্রণালয়ের হজ শাখার ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, তদন্তের সময় ওমরাহ এজেন্সির প্যাকেজ, ওমরাহ যাত্রীদের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিপত্র ও অন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, অভিযুক্ত এজেন্সির বক্তব্যের সমর্থনে কাগজপত্র আনতে হবে। এ ছাড়া যেকোনো তথ্য-প্রমাণের জন্য ‘ইউজার নেম’ ও ‘পাসওয়ার্ড’ আনতে হবে।
ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলেছে, সৌদি আরব থেকে প্রথমে এমন অভিযোগ থাকা ৫৯টি এবং সর্বশেষ ১০৪টি হজ এজেন্সির নাম পাঠানো হয়েছে। অবশ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, সব মিলিয়ে এমন এজেন্সির সংখ্যা ১০৩টি। কারণ, কোনো কোনো এজেন্সির নাম দুবার লেখা হয়েছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির মঙ্গলবারের বৈঠকে অভিযোগ ওঠা এজেন্সিগুলোর লাইসেন্স বাতিল করার সুপারিশ করা হয়েছে।
সৌদি আরবের জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ হজ অফিস থেকে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের যেসব এজেন্সি মানব পাচার করেছে, সেসব এজেন্সির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না নিলে আগামী ওমরাহ মৌসুমেও ওমরাহ পালনে আগ্রহী বাংলাদেশিদের ভিসা দেওয়া হবে না। ওমরাহ ভিসায় পাচার করা ব্যক্তিদের ফেরত আনার দায়িত্ব বাংলাদেশের অভিযুক্ত হজ এজেন্সিগুলোর। এসব এজেন্সির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং তারা যাঁদের পাচার করেছে, তাঁদের ফিরিয়ে আনতে চাপ প্রয়োগের জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ধর্মসচিব চৌধুরী মো. বাবুল হাসান বুধবার প্রথম আলোকে বলেন, পবিত্র ওমরাহ হজ পালন করতে যেতে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কোনো অনুমতি নিতে হয় না। এ বিষয়টি সরাসরি ওমরাহ এজেন্সি ও সৌদি দূতাবাসের সঙ্গে সম্পর্কিত। পুলিশ ভেরিফিকেশনও লাগে না। এ কারণে কেউ কেউ এ সুযোগ নেয়।
সৌদি আরবে কর্মরত হজ এজেন্সিগুলোর বোর্ডের চেয়ারম্যান ধর্ম মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে বলেছেন, শর্ত রয়েছে, ওমরাহ ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ওমরাহ পালনকারীদের ফেরত যেতে হবে। এজেন্সিগুলো শর্ত মেনেই লোক পাঠায়। কিন্তু কিছু এজেন্সি এ শর্ত ভঙ্গ করে অনেক টাকা নিয়ে সৌদি আরবে অবৈধভাবে থাকার জন্য ভিসা বিক্রি করেছে। এ কারণে সৌদি কর্তৃপক্ষ কয়েকটি এজেন্সির কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। এতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, যেসব এজেন্সির কারণে এ সংকট সৃষ্টি হয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) নির্বাহী কমিটির কিছু সদস্যের যোগসাজশ রয়েছে।
এ বিষয়ে হাবের সভাপতি মোহাম্মদ ইব্রাহিম বাহার প্রথম আলোকে বলেন, ‘যেসব এজেন্সির কারণে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে, তাদের তালিকা বের করে সদস্যপদ বাতিলসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা ধর্ম মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বলেছি। আশা করি, দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।’