খাদ্য সংগ্রহ দেখতে বিদেশে যেতে চায় সংসদীয় কমিটি

641

ইফতেখার মাহমুদ ও রোজিনা ইসলাম | জুন ১৫, ২০১৫

সরকারি গুদামে কীভাবে খাদ্য সংগ্রহ করা হয়, তা দেখতে বিদেশে যেতে চেয়েছেন খাদ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। গত ৬ মে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভায় তাঁরা এ ইচ্ছার কথা জানান।
এদিকে খাদ্য বিভাগের ধান-চাল সংগ্রহে ধীরগতির কারণে ধানের দাম কম। কৃষক ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না।
ওই সভায় উপস্থিত খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম সাংসদদের ওই ইচ্ছার সঙ্গে একমত পোষণ করেন। তিনি আধুনিক বিশ্বের যেকোনো একটি দেশের এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম কমিটির সদস্যদের পরিদর্শনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ওই সভার সিদ্ধান্ত হিসেবে খাদ্য আমদানি করা হয়, এমন কোনো দেশের খাদ্যগুদাম, মজুত ও সংরক্ষণ প্রক্রিয়া, বিপণন ও বাজারজাতকরণের বিষয়গুলো কমিটির সদস্যদের সরেজমিনে পরিদর্শনের ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘অন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা বিদেশে যান। আমাদের মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা একই দাবি জানালে তাঁদের আমরা হতাশ করিনি।’
খাদ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি রাজশাহী-৫ আসনের সাংসদ মো. আবদুল ওয়াদুদের সভাপতিত্বে ওই সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী, নওগাঁ-৫ আসনের মো. আবদুল মালেক, টাঙ্গাইল-৬ আসনের খন্দকার আবদুল বাতেন, খুলনা-৬ আসনের শেখ মো. নুরুল হক ও সংরক্ষিত আসনের বেগম শিরিন নঈম। এ কমিটির অন্য সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দীন, মো. হাসিবুর রহমান, শেখ ফজলে নূর তাপস ও হাজি সেলিম ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন না।
ওই সভার কার্যবিবরণীতে দেখা যায়, সভায় শেখ মো. নুরুল হক দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যে খাদ্যগুদাম ও সাইলোগুলো নির্মিত হচ্ছে তার গুণগত মান যাতে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়, সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবাইকে তৎপর থাকার পরামর্শ দেন। তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যেমন: ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও রাশিয়ায় নির্মিত খাদ্যগুদামের মান, খাদ্যশস্য সংরক্ষণ ও মজুত বীজ সংরক্ষণ ও বিপণন ইত্যাদির পদ্ধতি সরেজমিনে পরিদর্শন করে লব্ধজ্ঞান দেশের কাজে লাগানোর প্রস্তাব করেন।
এর জবাবে খাদ্যমন্ত্রী প্রতিবেশী দেশের খাদ্যগুদামসহ অন্যান্য কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শনের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থাসহ (এফএও) সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে খাদ্যসচিবকে নির্দেশ দেন।
সভায় এর আগে সাংসদদের বিদেশ সফরের দাবির প্রেক্ষাপট তুলে ধরতে গিয়ে সংসদীয় কমিটির সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ বলেন, এর আগে যোগাযোগের বিষয়টি বিবেচনা না করে দুর্গম এলাকায় খাদ্যগুদাম নির্মাণ করায় খাদ্যশস্য সরবরাহ ও পরিবহনে ব্যাপক অসুবিধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। ফলে সরকারের খাদ্যশস্য পরিবহনে বিপুল পরিমাণ অর্থের অপচয় হচ্ছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশে সরকারিভাবে তিন বছর ধরে কোনো চাল আমদানি বন্ধ। গম আমদানির জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে রাশিয়া ও ইউক্রেনের চুক্তি থাকলেও এর মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।
কমিটির সদস্যদের বিদেশ সফরের অগ্রগতির বিষয়ে আবদুল ওয়াদুদের কাছে জানতে চাইলে গতকাল রোববার তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ মাসের শেষ দিকে সংসদীয় কমিটির বৈঠক আছে। ওই বৈঠকে আমরা এ বিষয়ে খাদ্যসচিবের কাছে জানতে চাইব।’
খাদ্য বিভাগের ধান-চাল সংগ্রহে ধীরগতির কারণে ধানের দাম বাড়ছে না, কৃষক ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না—এ বিষয়ে সচিবকে কি কিছু বলবেন—এ প্রশ্নে কমিটির সভাপতি বলেন, ‘এটা মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব ব্যাপার। এসব বিষয়ে আমরা তাঁদের কিছু চাপিয়ে দিতে পারি না।’