সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনাল গঠনে টাকা দেবে না অর্থ মন্ত্রণালয়

623
রোজিনা ইসলাম | জুন ০৮, ২০১৫

সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে টাকা দেবে না অর্থ মন্ত্রণালয়। সরকারের আর্থিক দিক বিবেচনায় ট্রাইব্যুনাল গঠনে অপারগতা প্রকাশ করেছে তারা। যদিও সন্ত্রাস বিরোধী আইনে এক বা একাধিক ‘সন্ত্রাস বিরোধী ট্রাইব্যুনাল’ গঠন করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু টাকার অভাবে ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে না পারায় জেলা জজ ও দায়রা জজ দিয়েই কাজ সারতে হচ্ছে। তবে ধীর গতি বা ঢিলেমির কারণে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে করা প্রায় ৫০০ মামলার নিষ্পত্তির বিষয়টি আটকে রয়েছে।

ট্রাইব্যুনাল গঠনে টাকা না পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক গতকাল রোববার প্রথম আলোকে বলেন, ‘অনেক দিন ধরেই বলে আসছি, কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় টাকা না দিলে কি করার আছে। আমরা এখন চেষ্টা করছি বিজ্ঞ জেলা জজ ও দায়রা জজদের দিয়েই কাজটি করাতে।’
এর আগে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বেশ কয়েকবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, নাশকতার ঘটনায় সহ রাজনৈতিকভাবে দায়ের করা মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করে বিচার করতে বিশেষ দ্রুত ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এই মামলাগুলোর মধ্যে বেশির ভাগই রাজনৈতিক, নাশকতার ও গুরুত্বপূর্ণ মামলা। এ কারণে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী দ্রুত মামলাগুলো নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং অভিযোগপত্র দিতে বলেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর আর ধীর গতিতে এগোতে চাইছে না স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সূত্র জানায়, ২০১২ সালের নভেম্বর মাস থেকে এ ট্রাইব্যুনাল গঠনে আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়কে চাপ দিয়ে আসছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে থোকে বার চাহিদাপত্র, তাগাদা পত্রসহ নানা চিঠি দেওয়ার পর গতকাল এসে অর্থ মন্ত্রণালয় জানতে চেয়েছে সন্ত্রাস বিরোধী আইনের অধীনে এবং বিচারাধীন মামলার সংখ্যা কত? স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে গতকাল চিঠি দিয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের পুনরায় এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব সম্প্রতি অর্থ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিবকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে বলা হয়েছে সন্ত্রাস বিরোধী আইনের বিভিন্ন ধারায় দায়ের করা মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি হলে দেশে কার্যকরভাবে সন্ত্রাস দমন করা সম্ভব হবে। বর্তমানে দায়ের করা মামলাগুলো বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ তাঁদের অতিরিক্ত হিসেবে পরিচালনা করে ফলে তা নিষ্পত্তি করতে স্বাভাবিক বিলম্ব হয়। এর ফলে সন্ত্রাস দমন কার্যক্রম সন্তোষজনকভাবে সফল হচ্ছে না। তিনি এ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতার কথা উল্লেখ করে বলেন, ২০১২ সালের ১ নভেম্বর আইন মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে অনুরোধ জানানো হয়। এ প্রেক্ষিতে ২০১৩ সালের জুলাই মাসে প্রাথমিক পর্যায়ে সাতটি জেলা ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট ও রংপুর বিভাগের জন্য সাতটি ট্রাইব্যুনাল গঠনে সার্বিক সহযোগিতার জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে অনুরোধ জানায়। সেখানে প্রায় আড়াই কোটি টাকা ও ৪২টি পদ সৃজনের কথা বলা হয়। কিন্তু আর্থিক দিক বিবেচনায় অর্থ বিভাগ সন্ত্রাস বিরোধী ট্রাইব্যুনাল গঠনে অপারগতা প্রকাশ করে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদ গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার ঠিক জানা নেই। সম্প্রতি পুলিশসহ তাদের নানা বিষয়ে পদায়ন দেওয়া হয়েছে। ওই বিষয়ে নিশ্চয়ই কোনো প্রশ্ন আছে। রেকর্ডপত্র দেখে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে পারব।’
সূত্র জানায়, সন্ত্রাস বিরোধী আইনের ২৮ (১) ধারায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, এ আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধের দ্রুত ও কার্যকর বিচারের উদ্দেশ্য, এক বা একাধিক বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে পারবে।
২৮ (২) ধারায় বলা হয়েছে, এ আইনের অধীনে গঠিত ট্রাইব্যুনাল, সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে সরকারের মাধ্যমে নিযুক্ত একজন দায়রা জজ অথবা একজন অতিরিক্ত দায়রা জজের সমন্বয়ে গঠিত হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ন্যাশনাল কো-অর্ডিনেশন কমিটি ফর কমব্যাটিং টেরোরিজম অ্যান্ড মানিলন্ডারিং কমিটির সভাপতি। অথচ সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলা নিষ্পত্তি করতে ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিষয়টি অর্থ বিভাগ আমলে নিচ্ছে না।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘আমরা তো তাগাদা দিয়ে যাচ্ছি। প্রয়োজনে অর্থ বিভাগের সঙ্গে কথা বলব। কিন্তু সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলা নিষ্পত্তির জন্য আমাদের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করতেই হবে।’