গ্রামে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে ব্যয় হবে টিআর-কাবিখার অর্ধেক বরাদ্দ

631

রোজিনা ইসলাম | মে ২৬, ২০১৫

কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি (কাবিখা) ও টেস্ট রিলিফের (টিআর) জন্য বরাদ্দ করা খাদ্যশস্য বা নগদ টাকার অর্ধেক এখন থেকে সোলার প্যানেল স্থাপন ও বায়োগ্যাস প্রকল্পের জন্য খরচ করতে হবে। মাঠপর্যায়ে চলমান এ দুটি কর্মসূচি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি ঠেকাতে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ১৪ মে এ-সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করে। গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কারে আলোচনা-সমালোচনার মধ্য দিয়ে টিআর এবং কাবিখা কর্মসূচি পরিচালিত হয়ে আসছে। এখন ওই দুটি কর্মসূচির আওতায় গ্রামে আলো জ্বলবে, মিটবে জ্বালানির চাহিদা।
মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে দেশের যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ-সুবিধা নেই বা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ প্রয়োজন, সেসব এলাকায় সোলার সিস্টেম স্থাপন করতে বলা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ, এতিমখানা, উপাসনালয়, হাট-বাজার, ইউনিয়ন পরিষদসহ জনসমাগম হয়, এমন স্থানে সোলার প্যানেল বসাতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া কমপক্ষে চারটি পশু রয়েছে, এমন পরিবারকে বায়োগ্যাস প্রকল্প চালু করতে সহায়তা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই পরিপত্রে বিধবা ভাতা পাওয়া নারীদের উন্নতমানের চুলা সরবরাহ করতে বলা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে টিআর খাতে বরাদ্দ আছে আড়াই লাখ মেট্রিক টন গম। জনপ্রতিনিধিদের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে এক লাখ মেট্রিক টন গমকে টাকায় রূপান্তর করা হয়েছে। গত ২ মার্চ মন্ত্রণালয়ের এক সভায় টিআর ও কাবিখা খাতে বরাদ্দ করা মোট গম বা চালের অর্ধেক টাকায় রূপান্তর করার সিদ্ধান্ত হয়। মূলত এই টাকা দিয়েই সোলার প্যানেল ক্রয় ও বায়োগ্যাস প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

 

Untitled

জানতে চাইলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহ কামাল সম্প্রতি বলেন, অভিযোগ রয়েছে, টিআর ও কাবিখার চাল বা গম নিয়ে অনিয়ম হয়। এটা বন্ধ করার পাশাপাশি গ্রামে জ্বালানি ও বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও মাঠ প্রশাসনে কথা বলে জানা গেছে, বছরের পর বছর ধরে টিআর ও কাবিখার টাকা বরাদ্দ দেওয়ার পর তা দিয়ে উন্নয়নমূলক কাজের পাশাপাশি লুটপাট হয়েছে। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তা অনেক ক্ষেত্রেই সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয়নি। সাংসদের হাতে দেওয়া এসব কর্মসূচির গম বা চাল বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দলীয় নেতা বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ঘাটতি থাকায় এ সুবিধাপ্রাপ্য ব্যক্তিরা অনেকভাবেই বঞ্চিত হয়েছেন।
সম্প্রতি গাজীপুরে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক সম্মেলনে কয়েকজন জেলা প্রশাসক টিআর-কাবিখা নিয়ে সীমাহীন দুর্নীতির কথা উল্লেখ বলেন। তাঁরা অভিযোগ করেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যরা টিআর-কাবিখা নিয়ে অতিমাত্রায় হস্তক্ষেপ করেন। ফলে এসব প্রকল্পে অনিয়ম হলেও তাঁদের ভূমিকা রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
সম্মেলনে ওই সময়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত গাজীপুরের জেলা প্রশাসক কামাল উদ্দিন তালুকদার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশে টিআর-কাবিখা প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়ে আসছে। এর ফলে এসব প্রকল্পের আওতায় অনেক সময় অপরিকল্পিতভাবে রাস্তাঘাট নির্মাণ করা হচ্ছে। কৃষিজমি কমছে, বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি টিআর-কাবিখার বিকল্প কর্মসূচি চালুর প্রস্তাব করেন।
ওই সম্মেলনে নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যরা স্পেশাল টিআর-কাবিখার ব্যাপারে বেশি আগ্রহী থাকেন। সাংসদ যুক্ত থাকায় তাঁরা টিআর-কাবিখার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ বিভাগের সাবেক সচিব মোখলেছুর রহমান ওই সম্মেলনে টিআর এবং কাবিখা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, এটা ঠেকাতে টিআর-কাবিখার আওতায় খাদ্যশস্য বিতরণের বর্তমান নীতিমালা ও ক্ষেত্র সরকার পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সূত্র জানায়, সেই প্রক্রিয়াই এত দিনে সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে গ্রামের দরিদ্র মানুষ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি-সুবিধা পাবে, যা অন্যান্য কর্মসূচির তুলনায় স্বচ্ছ ও দৃশ্যমান হবে।