নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত নিয়োগ, পদোন্নতি, উন্নয়নকাজ বন্ধ

641

রোজিনা ইসলাম | ২০ এপ্রিল, ২০১৫
নির্বাচন শেষ না পর্যন্ত ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে নিয়োগ, পদোন্নতি, দোকান বরাদ্দসহ উন্নয়নমূলক সব কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ সোমবার স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়। স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব সরোজ কুমার নাথ এ নির্দেশনা জারি করেন।

গত শনিবার প্রথম আলোতে
‘নির্বাচনের মধ্যেই নিয়োগ, পদোন্নতি, উন্নয়নকাজ! ’
শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর এসব কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন। কমিশনের নিয়ম মেনে স্থানীয় সরকার বিভাগ দুই করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে আজ এ নির্দেশনা পাঠায়।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নির্বাচনের আগ পর্যন্ত সিটি করপোরেশনের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির সব কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। এ সময়ে কোনো দরপত্র আহ্বান ও কার্যাদেশ দেওয়া যাবে না এবং কোনো উন্নয়নকাজের বিপরীতে টাকা পরিশোধ করা যাবে না। কোনো ধরনের ইজারা দেওয়া, এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি দেওয়া বা কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করা যাবে না।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, সিটি করপোরেশনের মালিকানায় কোনো সম্পত্তি, দোকান বরাদ্দ, ভাড়া, লিজ দেওয়া যাবে না বা এ সংক্রান্ত উদ্যোগ গ্রহণ করা যাবে না। সিটি করপোরেশনের সঙ্গে অন্যান্য কোনো প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেন করা যাবে না। কোনো প্রাক্কলন প্রস্তুত, অনুমোদন ও প্রকল্পের অনুমোদন ইত্যাদি তৈরি করা যাবে না। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে এসব নির্দেশনা সবাইকে মানতে হবে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়। এসব নির্দেশনার কোনো ব্যত্যয় হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দায়ী থাকবেন।

তবে নির্বাচন কমিশন থেকে কিছু নির্দেশনা গত ২৯ মার্চ ও ৬ এপ্রিল দেওয়া হয়েছিল, যার স্মারক নম্বর আজকের আদেশে উল্লেখ করা হয়।

আজ পর্যন্ত এ দুই সিটি করপোরেশনে রুটিন মাফিক সব কাজ চলছিল। যদিও নির্বাচনী আচরণবিধিতে বলা হয়েছে, তফসিল ঘোষণার পর করপোরেশন এলাকায় কোনো ধরনের উন্নয়নমূলক প্রকল্প অনুমোদন এবং আগে অনুমোদিত প্রকল্পে টাকা ছাড় করা যাবে না।

সিটি করপোরেশনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দাবি করেন, ২০১১ সাল থেকে করপোরেশনে কোনো জনপ্রতিনিধি না থাকায় সব কাজ এত দিন যেভাবে চলেছে, এখনো সেভাবেই চলছে। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন বা স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে কোনো নির্দেশনা ছিল না।