নতুন মেয়রদের শপথ কবে?

636

রোজিনা ইসলাম | জুলাই ১৭, ২০১৩

২৩ জুলাইয়ের মধ্যে চার সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়রদের শপথ পাঠ করানোর কথা। আর মাত্র ছয় দিন বাকি, কিন্তু গতকাল মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত এ-সংক্রান্ত নথি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হয়নি। এর ফলে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সময়ও পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ-সংক্রান্ত নথি স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের কাছে রয়েছে। নথিতে তিনি অনেক আগেই সই করেছেন বলে সূত্রটি নিশ্চিত করেছে। কিন্তু একবার স্থানীয় সরকার বিভাগে তা পাঠানোর পর ফেরত নেওয়া হয়।
গত ১৫ জুন রাজশাহী, খুলনা, সিলেট ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। চারটিতেই বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীরা মেয়র নির্বাচিত হন। আর গেজেট প্রকাশ করা হয় গত ২৪ জুন। স্থানীয় সরকার বিধিমালা অনুযায়ী ২৩ জুলাইয়ের মধ্যে তাঁদের শপথ নিতে হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকারসচিব আবু আলম মো. শহিদ খান প্রথম আলোকে বলেন, আইন অনুযায়ী নবনির্বাচিত মেয়রদের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে শপথ পাঠ করানো হবে।
জানা গেছে, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি করপোরেশন শাখা ইতিমধ্যে শপথ অনুষ্ঠানের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। অতিথির তালিকাও তৈরি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সময় দিলেই নবনির্বাচিত চার মেয়র ও কাউন্সিলরদের শপথ গ্রহণের তারিখ জানানো হবে। সেই অনুযায়ী আমন্ত্রণপত্র তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
তবে একটি সূত্র বলছে, শপথের সম্ভাব্য তারিখ হতে পারে ২১ জুলাই রোববার। কেননা, ১৯ ও ২০ জুলাই শুক্র ও শনিবার। ২২ জুলাই মন্ত্রিসভার বৈঠক। সুতরাং শপথ অনুষ্ঠানের তারিখ রোববারই নির্ধারণ হতে পারে। তবে শপথ নিলেও মেয়রের ক্ষমতা পেতে আরও প্রায় তিন মাস অপেক্ষা করতে হবে তাঁদের।
স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন আইন), ২০০৯-এর ৬ ধারা মোতাবেক করপোরেশন গঠিত হওয়ার পর প্রথম বৈঠকের পরবর্তী পাঁচ বছর পর্যন্ত মেয়াদ নির্ধারিত থাকায় চার মেয়রকেই অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তবে আইনে গেজেট প্রকাশের এক মাসের মধ্যে শপথ গ্রহণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
সূত্রমতে, আইন অনুযায়ী রাজশাহী ও সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলরদের মেয়াদ উত্তীর্ণ হবে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর। একই সঙ্গে খুলনা ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হবে যথাক্রমে ২৪ সেপ্টেম্বর ও ৭ অক্টোবর।
নির্বাচনী আইনানুযায়ী মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত চার মাস আগেই নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ায় যে জটিলতা সৃিষ্ট হয়েছে, তা নিরসনে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত চেয়ে ইতিমধ্যে চিঠি দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। তবে এ বিষয়ে কোনো মতামত পাওয়া যায়নি বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।