সন্ত্রাসবিরোধী মামলার অভিযোগপত্র দিতে স্বরাষ্ট্রের অনুমতি লাগবে

594
রোজিনা ইসলাম | জুলাই ১৪, ২০১৩

imagesসন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা কোনো মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিলের আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হবে। আর রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা রুজু করার আগেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে তা মানা হচ্ছে না।  ২ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইন অধিশাখা এ-সংক্রান্ত একটি পরিপত্র পুলিশ সদর দপ্তরসহ বিভাগীয় কমিশনার, উপমহাপরিদর্শক, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সুপারের কাছে পাঠানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইন শাখার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা ও রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা গতানুগতিক মামলার মতো নয়। এসব মামলা দায়ের ও অভিযোগপত্র দাখিলের ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের যে বাধ্যবাধকতা তা মানা হচ্ছে না। ফলে আসামিরা সহজেই জামিন পেয়ে যাচ্ছেন, নিরীহ ব্যক্তিদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এবং বিচার-প্রক্রিয়ায় আইনগত জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে।সূত্রমতে, অনুমোদন না নিয়ে আদালতে মামলা উপস্থাপনের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। আদালতে এসব অভিযোগপত্র পাঠানোর পর তা আবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুমোদন আনার জন্য পাঠানো হচ্ছে। অনেক সময় আদালত আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে এ বিষয়ে অনুমোদন চাচ্ছেন। বিষয়টি আইন মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত না হওয়ায় তা আবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে অনুমোদন নেওয়া হচ্ছে।জানা গেছে, অনুমোদন না নিয়ে অভিযোগপত্র পাঠানোর কারণে গত তিন মাসে রংপুর, নীলফামারি, সাতক্ষীরাসহ প্রায় ১০ জন পুলিশের কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তার পরও এ চর্চা বন্ধ হচ্ছে না।

রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা করার ক্ষেত্রে অনুমোদন নেওয়া হচ্ছে না

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ৪০ (২) ধারা অনুযায়ী ‘সরকারের পূর্বানুমোদন ছাড়া কোনো আদালত এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ আমলে নিতে পারবে না।’ পরিপত্রে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসবিরোধী আইন (সংশোধনী) ২০১৩-এর আওতায় কোনো অপরাধ হলে পুলিশ কর্মকর্তা তাৎক্ষণিকভাবে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে অবহিত করে তদন্ত শুরু করতে পারবেন। তদন্ত শেষ হলে অবশ্যই সরকারের পূর্বানুমোদন নিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট মামলাটির অভিযোগপত্র দাখিল করবেন।

কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হেনস্তা করতে বিধিবিধান না মেনে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করার অভিযোগ উঠেছে।

সূত্র জানায়, গত প্রায় ছয় মাসে প্রায় ৫০ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কটূক্তি, সরকারবিরোধী প্রচারপত্র বিলি করাসহ  রাজনৈতিক ও সামাজিক কোন্দলের কারণেও রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা করা হচ্ছে। জানতে চাইলে পুলিশের মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার প্রথম আলোকেবলেন, ইতিমধ্যে পুলিশ সুপারদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এত দিন যেসব মামলা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে করা হয়নি সেগুলোর বিষয়ে জানতে চাইলে মহাপরিদর্শক বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে। যদি কেউ না জেনে করে থাকে তাহলে ভিন্ন কথা, তবে দায়িত্বে অবহেলার জন্য অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।