নতুন অজুহাত সীমানা নির্ধারণ: ডিসিসি নির্বাচন হচ্ছে না

780

রোজিনা ইসলাম | জুলাই ১৩, ২০১৩

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিসিসি) নির্বাচন অনুষ্ঠানের সম্ভাবনা নেই। সীমানা নির্ধারণ-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে শিগগিরই তফসিল ঘোষণা করা সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশন সূত্র।সূত্রগুলোর মতে, ঢাকা মহানগরের অনেক এলাকা এখনো সিটি করপোরেশনের আওতায় আনা হয়নি। এ ছাড়া কোথাও কোথাও এক এলাকার ভোটার অন্য এলাকায় ঢুকে গেছেন। এসব জটিলতা নিষ্পত্তি করতে স্থানীয় সরকার বিভাগকে বলেছে নির্বাচন কমিশন।

উত্তরার ১১ নম্বর থেকে ১৪ নম্বর সেক্টর পর্যন্ত সিটি করপোরেশনের আওতায় আনতে আবেদন করেছে উত্তরা সোসাইটি। এসব এলাকা ইতিমধ্যে ঢাকা সিটি করপোরেশনকে বুঝিয়ে দিয়েছে রাজউক। এখন এসব এলাকা ইউনিয়নের আওতায় রয়েছে।সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, ওই এলাকাগুলো সিটি করপোরেশনের আওতায় আনতে হলে অন্তত তিন মাস লাগবে। কারণ, প্রথমে সীমানা নির্ধারণ কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে হবে। এরপর আছে ভোটার তালিকা করার বিষয়টি। এভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিলে কেউ আদালতে মামলা ঠুকে দিতে পারে। ফলে শিগগিরই ডিসিসি নির্বাচন অনুষ্ঠানের সম্ভাবনা নেই।এ ছাড়া গুলশানের নিকেতন, মিরপুরের রূপনগর ও পল্লবীর কিছু অংশ তুরাগ, সবুজগাঁওয়ের দক্ষিণগাঁও, দক্ষিণখান, উত্তরখান, বাটারা, পল্লবী, বসুন্ধরা, বনশ্রীসহ বেশ কিছু এলাকা সিটি করপোরেশনের আওতায় আনতে স্থানীয় সরকার বিভাগে আবেদন করেছে এলাকাবাসী। এসব এলাকা সম্প্রতি উন্নয়ন করা হয়েছে।এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকারসচিব আবু আলম মো. শহিদ প্রথম আলোকে বলেন, সীমানা নির্ধারণ-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন না করে কোনোভাবেই ডিসিসি নির্বাচন করা সম্ভব হবে না। সীমানা নির্ধারণ জটিল একটি প্রক্রিয়া। স্থানীয় সরকার বিভাগের দাবি, ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন করার স্বার্থেই তারা এত দিন এসব আবেদন আমলে নেয়নি। এখন যেহেতু নির্বাচন কমিশন থেকেই এসব জটিলতা নিরসনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাই তারা কমিশনের নির্দেশ মেনে এসব সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছে। গত ২১ মে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ বলেছিলেন, ডিসিসির সীমানা নিয়ে জটিলতার অবসান না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে না।

আইনি নোটিশ: ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল চেয়ে আইনি নোটিশ দিয়েছেন দুজন আইনজীবী। গত বৃহস্পতিবার রেজিস্ট্রি ডাকযোগে স্থানীয় সরকারসচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনসচিব বরাবর এই নোটিশ পাঠানো হয়।

ডিসিসির সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০০২ সালে। মেয়াদ শেষে ২০০৭ সালে নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। এভাবে কেটে যায় প্রায় ছয় বছর। ২০১১ সালের নভেম্বরে দুই ভাগ হয় ডিসিসি। এরপর ২০১২ সালের এপ্রিলে তফসিল ঘোষণা করা হলেও ভোটার তালিকা হালনাগাদ আর সীমানা নির্ধারণ না হওয়া নিয়ে রিটের কারণে আটকে যায় নির্বাচন। গত মাসে আদালতের রায়ে জটিলতা কাটার পর নতুন প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়ায় সুলতাগঞ্জ ইউনিয়ন। গত মাসে এ-সংক্রান্ত গেজেট জারি করা হলেও এখন ফের জটিলতা শুরু হয়েছে।