শ্রম মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন: শর্টসার্কিট থেকেই তুংহাই কারখানায় আগুন

654

রোজিনা ইসলাম | মে ২৮, ২০১৩

বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগার কারণেই রাজধানীর মিরপুরের তুংহাই সোয়েটার কারখানার মালিক, পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজিসহ আটজন নিহত হয়েছেন। শ্রম মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছিল কারখানার তৃতীয় তলার আয়রন সেকশন থেকে। আগুন লাগার পর সৃষ্ট বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে শ্বাসরোধ হয়ে তাঁরা মারা যান। তবে দুর্ঘটনার সময় ওই ব্যক্তিরা কারখানার দশম তলায় বা ছাদে যেতে পারলে এই প্রাণহানি ঘটতো না বলে মন্তব্য করা হয়েছে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে।

আজ মঙ্গলবার কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন পরিদপ্তরের প্রধান পরিদর্শক মো. হাবিবুল ইসলাম শ্রমসচিব মিকাইল শিপারের কাছে এ-সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

৮ মে রাত পৌনে ১১টার দিকে তুংহাই সোয়েটার কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন ও তদন্ত করে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিরা হলেন পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (ট্রান্সপোর্ট) জেড এ মোরশেদ, তুং হাইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পোশাকমালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর পরিচালক মাহবুবুর রহমান, তাঁর তিন বন্ধু কুমিল্লা (উত্তর) যুবলীগের সভাপতি সোহেল মোস্তফা, ব্যবসায়ী এমদাদুর রহমান ও সৈয়দ নাসিম রেজা, পুলিশ কর্মকর্তা মোরশেদের গাড়িচালক রিপন চাকমা, তুংহাইয়ের অফিস সহকারী সাহাবুদ্দিন বিশ্বাস ও রংমিস্ত্রি মোস্তাফিজুর রহমান।

তদন্ত কমিটি প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় কারখানার উত্পাদনকাজ বন্ধ ছিল। তবে এর আগে রাত ১০টা পর্যন্ত কারখানা ভবনের তৃতীয় তলায় আয়রন ফিনিশিং ও চতুর্থ তলায় বারটেক সেকশনে প্রায় ১৫০ জন শ্রমিক উত্পাদন কাজে নিয়োজিত ছিলেন। শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগার সময় কোনো লোডশেডিং ছিল না এবং কারখানার জেনারেটর বন্ধ ছিল। অগ্নিকাণ্ডের সময় কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ অন্য সাতজন দশম তলায় ছিলেন। এর মধ্যে সাহাবউদ্দিন ও মোস্তাফিজুর রহমান কাজ করছিলেন। অন্যরা কারখানা ভবনের দশম তলায় অফিসে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে আলোচনা করছিলেন। আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নেভাতে সক্ষম হয় এবং অচেতন অবস্থায় আটজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন।

বর্তমানে কারখানার উত্পাদনকাজ বন্ধ রয়েছে এবং কারখানার মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছে। এ ঘটনায় ব্যাপক আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিটি।

তদন্ত কমিটি তাদের দেওয়া প্রতিবেদনে আরও জানায়, কারখানা ভবনটি ১১ তলাবিশিষ্ট এবং ওই ভবনে দুইটি পাকা প্রশস্ত সিঁড়িপথ, তিনটি স্বতন্ত্র ও অবাধ যাতায়াতের ব্যবস্থা রয়েছে। কারখানা ভবনের নিচতলায় স্টোর, ফিনিশিং, গোডাউন, কমপ্লায়েন্স অফিস, ইনস্পেকশন-কক্ষ, ডাক্তার-কক্ষ ও শিশুকক্ষ, দ্বিতীয় তলায় ফিনিশিং ও লেভেল সেকশন, তৃতীয় তলায় আয়রন, রি কনটিনিউ ও জিপার সেকশন, চতুর্থ তলায় লিংকিং, কনটিনিউ, বারটেক, ওভারলক সেকশন, পঞ্চম তলায় লিংকিং ও ওভারলক সেকশন এবং ষষ্ঠ থেকে নবম তলা পর্যন্ত নিটিং সেকশন অবস্থিত। দশম তলায় অফিস এবং একাদশ তলায় নিটিং ও বিশেষ শাখা অবস্থিত। এ ছাড়া কারখানার উত্পাদন কাজে ব্যবহূত বয়লার ও জেনারেটর নিচতলায় আলাদা ভবনে অবস্থিত।