পরিবেশের ছাড়পত্র ছাড়াই কারখানা ভবন নির্মাণ!

637

রোজিনা ইসলাম ওমনিরুজ্জামান | মে ২২, ২০১৩ |

নিয়ম ভেঙে ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করা হচ্ছে মোজা তৈরির কারখানা। নরসিংদীতে জেলা পুলিশ লাইন ও পুলিশ লাইনস স্কুলের সামনে ‘টপ স্টাইল গ্লোভস নিটিংস লিমিটেড’ নামে এ মোজা তেরির কারখানা নির্মাণ করা হচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, এতে সংলগ্ন বিদ্যালয় ও পলিটেকনিক ইনিস্টিটিউটের শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কারখানাটির সামনে পুলিশ লাইন ও মসজিদ এলাকায় যাঁরা বসবাস করছেন, তাঁরাও শব্দ ও পরিবেশ দূষণের শিকার হবেন। এ অবস্থায় পুলিশ সদর দপ্তর থেকে দ্রুত এ কারখানা বন্ধের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে গত ৮ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পরিবেশ অধিদপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। জানতে চাইলে নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোয়েন্দা) মো. মোখলেছুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘পুলিশ লাইনের সামনে কারখানাটি নির্মাণের ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরে পরিবেশ অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। কারখানাটি চালু হলে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম,         বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম হুমকির মুখে পড়বে।’ জানা গেছে, শীলমান্দি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম সরকারের ছেলে মোমেন সরকার কারখানাটি নির্মাণ করছেন। পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে বেশ কয়েকবার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে এ কারখানা নির্মাণের  ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে অভিযোগ করা হয়। নরসিংদী পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আতাউর রহমান বলেন, কারখানাটি নির্মাণের বিষয়ে কোনো ধরনের অনুমতি নেওয়া হয়নি। পুলিশ সুপারের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কারখানা কর্তৃপক্ষকে নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, পুলিশ লাইনস স্কুল থেকে ২০ গজ ও মসজিদ থেকে ২৫ গজ দূরে কারখানাটির ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। সেখানকার স্থানীয় এক বাসিন্দা প্রথম আলোকে বলেন, ‘এইখানের স্কুলে শুধু পুলিশের পোলাপাইনই পড়ে না। আমাগো পোলাইনও পড়ে। মোমেন সাহেবরে অনেকবার বলার পরেও তিনি শুনছেন না।’ পুলিশ লাইনস স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. আবু সাঈদ ভূঁইয়া বলেন, একটি বিদ্যালয়ের মাত্র ২০ গজ দূরে যদি কারখানা হয়, তাহলে এর শিক্ষা কার্যক্রমের কী হাল হতে পারে, তা সহজেই বোঝা যায়। মোমেন সরকার গ্রুপের চেয়ারম্যান ও টপ স্টাইল গ্লোভস নিটিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক  মো. মোমেন সরকার প্রথম আলোকে বলেন, কারখানা নির্মাণে সংশ্লিষ্ট বিভাগের অনুমতি নেওয়া হয়েছে। শুধু পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেওয়া হয়নি। এর জন্য আবেদন করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ‘এ কারখানায় কোন শব্দদূষণ হবে না। কারণ এখানে যে যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হবে তা শব্দবিহীন। তাই কারও কোনো সমস্যা হবে বলে আমি মনে করি না।’