রোজিনা ইসলাম, ঢাকা১৪ আগস্ট ২০১৮, ১৩:২৬ 
আপডেট: ১৪ আগস্ট ২০১৮, ১৬:৪৪

  • প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী গাছ সংরক্ষণ
  • ২০১৬ সালে বৃক্ষ সংরক্ষণ আইন অনুমোদন হয়।
  • এখন আবার তা বাতিলের প্রস্তাব যাচ্ছে মন্ত্রিসভায়।

মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হওয়া প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী গাছ সংরক্ষণে করা আইনটি আবারও বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শত বছরের পুরোনো এই গাছগুলো এখন অবাধে যে কেউই কেটে ফেলতে পারবে। এসব গাছ সংরক্ষণে আর কোনো নিয়ম রইল না। নতুন কোনো আইন বা নীতিও এখনো চূড়ান্ত হলো না।
সারা দেশের পুরোনো মূল্যবান এই গাছগুলো কালের সাক্ষী হয়ে গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্যের সহস্র বছর বেঁচে রয়েছে। পরিবেশবিদদের চাপে এসব গাছ সংরক্ষণে সরকার আইন করেছিল। কিন্তু এখন এসে উন্নয়নের দোহাই দিয়ে এবং বাণিজ্যিক কারণে এসব গাছ সংরক্ষণে যে আইন করেছিল, তা চূড়ান্ত না করে ‘বৃক্ষ সংরক্ষণ আইন’ নামে এই আইন বাতিল করার উদ্যোগ নিয়েছে। মন্ত্রিসভায় পাঠানোর জন্য একটি প্রস্তাবও তৈরি করেছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। দু-এক দিনের মধ্যেই প্রস্তাবটি পাঠানো হবে।
ব্যাপক পর্যালোচনা করে এবং সময় নিয়ে তৎকালীন পরিস্থিতি বিবেচনায় ২০১৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিসভার বৈঠকে নীতিগতভাবে বৃক্ষ সংরক্ষণ আইন অনুমোদন করা হয়। যত্রতত্র বৃক্ষসম্পদ আহরণ সীমিত করা এবং প্রাচীন বৃক্ষগুলো সংরক্ষণ করার জন্যই বৃক্ষ সংরক্ষণ আইন প্রণয়নের এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল। এখন এসে বলছে, এ আইনের প্রয়োজন নেই। অন্য যেসব আইন আছে, সেগুলোতেই চলবে। এর আগেও বৃক্ষ সংরক্ষণ আইন, ২০১১-এর খসড়া মন্ত্রিসভায় ২০১১ সালে নীতিগত অনুমোদন এবং ৩১ অক্টোবর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে তা বাতিল করা হয়।
এখন মন্ত্রণালয়ের যুক্তি, নীতিগতভাবে অনুমোদিত বৃক্ষ সংরক্ষণ আইনটির কতিপয় বিধান স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এবং স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাই তারা বন আইন, ১৯২৭-এ সংশোধন বা সংযোজন করে বৃক্ষ সংরক্ষণ আইনের কিছু ধারা প্রয়োগ করবে। এ পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিসভা নীতিগতভাবে অনুমোদিত বৃক্ষ সংরক্ষণ আইন প্রণয়নের প্রয়োজন নেই বলে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করতে বলছে।
পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব আবদুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা এখন ১৯২৭ সালের বন আইন সংশোধনের চেষ্টা করছি। বৃক্ষ সংরক্ষণ আইনে প্রাচীন গাছ না কাটার বিষয়ে যেসব বিষয় ছিল, তা অন্তর্ভুক্ত করা হবে বন আইনে। তাই বৃক্ষ সংরক্ষণ আইন, ২০২৬ বাতিল চাইছি। উন্নয়ন চাইলে অনেক সিদ্ধান্তেরই সমন্বয় করতে হয়।’
তবে পরিবেশবাদী ও বননির্ভর জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা বলছেন, বন আইনে যেসব সংশোধনী আনা হচ্ছে, সেগুলো পাস হলে বননির্ভর জনগোষ্ঠী বনের ওপর তাদের প্রথাগত অধিকার হারাবে। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। যেখানে বৃক্ষ সংরক্ষণে বিভিন্ন দেশ কঠোর আইন করছে, সেখানে বাংলাদেশে পেছনে হাঁটছে সরকার। বাংলাদেশে বৃক্ষ সংরক্ষণ নিয়ে কোনো আইন না থাকার ফলে প্রকাশ্যে গাছপালা কেটে ফেললেও আমরা আদালতে যেতে পারব না।’