রোজিনা ইসলাম, ঢাকা০৬ এপ্রিল ২০১৮, ১৬:০৬ 
আপডেট: ০৬ এপ্রিল ২০১৮, ১৬:১৯

মুক্তিযোদ্ধা কোটায় বা অন্য কোনোভাবে সরকারি চাকরিতে যোগ দিলে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানেরা কোনো সম্মানী ভাতা পাবেন না। মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের মধ্যে কন্যার ক্ষেত্রে বিয়ের আগ পর্যন্ত এবং পুত্রসন্তানেরা ৩০ বছর পর্যন্ত এ ভাতা পাবেন। মুক্তিযোদ্ধা বা তাঁর স্ত্রী বা স্বামী বেঁচে না থাকলে তাঁদের সন্তানেরা তথ্য–প্রমাণ দিয়ে এ সম্মানী ভাতা নিতে পারবেন।

মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা বিতরণের ক্ষেত্রে নানা ধরনের অসংগতি দূর করতে সরকার ‘বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা বিতরণ নীতিমালা, ২০১৮’ নামে একটি নীতিমালার খসড়া চূড়ান্ত করেছে। নীতিমালায় বেশ কিছু বিষয় সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, বীর মুক্তিযোদ্ধারা আমৃত্যু নির্ধারিত হারে সম্মানী ভাতা পাবেন। তাঁর মৃত্যুর পর স্ত্রী বা স্বামী আমৃত্যু সম্মানী ভাতা পাবেন। তবে মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর পর তিনি পুনরায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলে বা তালাকপ্রাপ্ত হলে এ সম্মানী ভাতা পাবেন না। মানসিক প্রতিবন্ধী বা সম্পূর্ণ বিকলাঙ্গ বা শারীরিকভাবে পঙ্গু পুত্র বা কন্যা আমৃত্যু সম্মানী ভাতা প্রাপ্য হবেন।জানতে চাইলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক প্রথম আলোকে বলেন, সম্মানী ভাতার বিষয়ে আগে সুনির্দিষ্ট কোনো নিয়ম ছিল না। অনেক মুক্তিযোদ্ধাই মারা গেছেন, স্ত্রী সুবিধা পাচ্ছেন। আবার কারও কারও স্ত্রীও মারা গেছেন। এ অবস্থায় সন্তানেরা কত দিন পর্যন্ত এ ভাতা পাবেন, কারা পাবেন—এসব বিষয় নির্দিষ্ট করতেই এ নীতিমালা। আজীবন তো আর কারও পরিবারের সদস্য এ ভাতা পেতে পারেন না। আগে তিন মাস পরপর ভাতা দেওয়া হতো। এ নীতিমালা কার্যকর হওয়ার পর থেকে প্রতি মাসে ভাতা দেওয়া হবে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, মুক্তিযোদ্ধার পুত্রের বয়স ৩০ বছর হওয়ার আগে বা কন্যার বিবাহের আগে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় বা অন্য কোনোভাবে সরকারি চাকরিতে যোগ দিলে তাঁরা কোনো সম্মানী ভাতা পাবেন না। মুক্তিযোদ্ধার একাধিক স্ত্রী ও একাধিক পুত্রকন্যার মধ্যে সম্মানী ভাতা সমহারে ভাগ হবে। জীবিত বা মৃত একাধিক স্ত্রীর ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের সমহারে সম্মানী পাবেন। তালাক পাওয়া স্ত্রীর সন্তান যদি মুক্তিযোদ্ধার ঔরসজাত হন, তবে তাঁরা এই সম্মানী ভাতা পাবেন।

তবে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতা ভোগ করে থাকেন, এমন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার বা মৃত, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিবার এ নীতিমালার আওতায় সম্মানী ভাতা প্রাপ্য হবেন না।

বর্তমান ব্যবস্থা অনুযায়ী, সাধারণ মুক্তিযোদ্ধারা এখন মাসে ১০ হাজার টাকা করে ভাতা পাচ্ছেন।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, আগে থেকে যাঁরা সম্মানী ভাতা পাচ্ছিলেন, তাঁরা নিয়মিত পাবেন। আর যাঁরা পাচ্ছেন না, তাঁরা জেলা, উপজেলা বা সিটি করপোরেশনে আবেদন করবেন। মুক্তিযোদ্ধা বা তাঁর পরিবারের সম্মানী ভাতার আবেদন তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। অন্যদিকে আপিল দাখিলের মাস শেষ হওয়ার পর ছয় মাসের মধ্যে মন্ত্রণালয় আপিল নিষ্পত্তি করবে। মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু হলে সুবিধাভোগীদের পক্ষে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি আবেদন করতে পারবেন।

মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি মাসে সম্মানী ভাতা দেওয়া হবে। তবে কোনো মুক্তিযোদ্ধা বা উত্তরাধিকারী ইচ্ছা করলে একত্রে একাধিক মাসের বকেয়া উত্তোলন করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অর্থবছর ছাড়া পূর্ববতী অর্থবছরগুলোর কোনো বকেয়া দাবি করা যাবে না।

ইলেকট্রনিক পদ্ধতি বা মুঠোফোনে ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা অন্য কোনো স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য ও দ্রুতগতির পদ্ধতির সহায়তা নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা বা তাঁর পরিবারের সদস্যদের কাছে মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা বিতরণ করা হবে। সম্মানী ভাতা প্রাপকের ছবি ও নমুনা স্বাক্ষর জমা দিতে হবে।

ভাতা গ্রহণকারী শারীরিকভাবে অক্ষম হলে বা তিনি পর্দানশিন হওয়ার কারণে ভাতা গ্রহণের জন্য সশরীরে উপস্থিত হতে না পারলে তিনি অন্য কোনো ব্যক্তিকে ভাতা নেওয়ার জন্য বাছাই করতে পারবেন। মনোনীত ব্যক্তির পরিচয়পত্রে ওয়ার্ড কাউন্সিলর বা গেজেটেড কর্মকর্তা বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যায়িত ছবি থাকতে হবে।