রোজিনা ইসলাম
২০ জুলাই ২০১৭, ০২:৪১
আপডেট: ২০ জুলাই ২০১৭, ০২:৪৪

গুলশানের নিজ বাড়িতে শাজনীন তাসনিম রহমানকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শহিদুল ইসলাম (শহিদ) রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেছেন। মৃত্যুদণ্ড থেকে রেহাই চেয়ে যেকোনো মেয়াদে সাজা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ সুপারের কার্যালয় থেকে প্রাণভিক্ষার আবেদনটি গত ৮ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে মতামত চেয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে তিনবার চিঠি পাঠানো হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (কারা) মুহিবুল হক প্রথম আলোকে বলেন, মতামত চেয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে কয়েক দফা চিঠি পাঠানো হয়েছে। অন্য নথির বিষয়ে মতামত পাওয়া গেলেও শহিদুলের বিষয়টি বিলম্ব করা হচ্ছে। যত দ্রুত সম্ভব মতামত পাঠানোর নিয়ম। মন্ত্রণালয়ের আরেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, যত দ্রুত মতামত আসবে, 
তত দ্রুত রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো যাবে। আর যত দিন মতামত না পাওয়া যাবে, তত দিন আসামির ফাঁসিও কার্যকর হবে না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আবেদন করেছে নাকি, ভেরি গুড।’ মতামত কী দিচ্ছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রশ্নই ওঠে না, আমার কাছে আসলে আমি আসামির পক্ষে মত দেব না। তবে প্রাণভিক্ষা দেওয়া না-দেওয়া রাষ্ট্রপতির এখতিয়ার।’ নথি কোথায় আছে তিনি খুঁজে দেখবেন বলে জানান।

এদিকে কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক পত্রে উল্লেখ করা হয়, কারা বিধি অনুসারে গত ২৪ মে রাত ১০টায় শহিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দিনক্ষণ ধার্য করা হয়েছিল। তবে সরকারের নির্দেশ না পাওয়ায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এই প্রাণভিক্ষার আবেদন বিবেচনায় নেওয়া হবে কি না, জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাষ্ট্রের কাছে যে কেউ ক্ষমা চেয়ে আবেদন করতে পারেন। আমরা রাষ্ট্রপতির কাছে বিধি মোতাবেক সেই আবেদন পৌঁছে দেব। সংবিধান অনুযায়ী ক্ষমা করা বা সাজা কমানোর ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির। তিনিই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন।’

শাজনীন তাসনিম রহমানের বাবা লতিফুর রহমান ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান। ১৯৯৮ সালের ২৩ এপ্রিল রাতে গুলশানে নিজ বাড়িতে খুন হন শাজনীন তাসনিম রহমান। ওই ঘটনায় করা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার হয় ঢাকার দ্বিতীয় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে। ২০০৩ সালের ২ সেপ্টেম্বর বিচারিক আদালত শাজনীনকে ধর্ষণ ও খুনের পরিকল্পনা এবং সহযোগিতার দায়ে ছয় আসামিকে ফাঁসির আদেশ দেন। তাঁরা হলেন শাজনীনের বাড়ির গৃহভৃত্য শহিদ, বাড়ির সংস্কারকাজের দায়িত্ব পালনকারী ঠিকাদার সৈয়দ সাজ্জাদ মইনুদ্দিন হাসান ও তাঁর সহকারী বাদল, বাড়ির গৃহপরিচারিকা দুই বোন এস্তেমা খাতুন (মিনু) ও পারভীন এবং কাঠমিস্ত্রি শনিরাম মণ্ডল।

উল্লেখ্য, বিচারিক আদালতে আসামি শহিদকে তাঁর বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ পড়ে শোনানো হলে শহিদ দোষ স্বীকার করে বলেছিলেন যে ‘আমি দোষী। আমার ফাঁসি চাই।’

বিচারিক আদালতের রায়ের পর এই মামলার মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের (ডেথ রেফারেন্স) জন্য হাইকোর্টে যায়। একই সঙ্গে আসামিরাও আপিল করেন। ২০০৬ সালের ১০ জুলাই হাইকোর্ট পাঁচ আসামির ফাঁসির আদেশ বহাল রেখে একমাত্র শনিরামকে খালাস দেন।

পরবর্তী সময়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন চার আসামি হাসান, বাদল, মিনু ও পারভীন। ফাঁসির আদেশ পাওয়া অপর আসামি শহিদ জেল আপিল করেন। আপিল বিভাগ গত বছরের ২ আগস্ট চার আসামির আপিল মঞ্জুর ও শহিদের জেল আপিল খারিজ করেন। সর্বশেষ মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে শহিদের করা আবেদন খারিজ করা হয় গত ৫ মার্চ।