রোজিনা ইসলাম
২০ জুন ২০১৭, ০১:৪২
আপডেট: ২০ জুন ২০১৭, ০১:৪৪

গত তিন মাস তাঁকে শতাধিক চিঠি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি চিঠির জবাব দেননি।
তিনি শুধু ব্যস্ত থাকেন কর্মকর্তাদের বদলি করা নিয়ে


নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। সংস্থার কর্মকর্তারা মাদকবিরোধী অভিযান করছেন না, মাদকসংক্রান্ত মামলার তদন্তও বন্ধ রেখেছেন। মাদক ব্যবসায়ীদের যে তালিকা নিজেরা সংরক্ষণ করছেন, তা-ও ভুয়া। এই অভিযোগ খোদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের।

মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বলছেন, অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সালাহউদ্দিন মাহমুদ মন্ত্রণালয়ের কোনো কথা শোনেন না। গত তিন মাস তাঁকে শতাধিক চিঠি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি ৯৯ শতাংশ চিঠির কোনো জবাব দেননি। তিনি শুধু ব্যস্ত থাকেন কর্মকর্তাদের বদলি করা নিয়ে। অবশেষে গতকাল সোমবার তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে।

অবশ্য মহাপরিচালক সালাহউদ্দিন মাহমুদ এসব অভিযোগ মানতে নারাজ। গতকাল প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘এসব একেবারে মিথ্যা কথা। আমরা নিয়মিত কাজ করছি, অভিযান পরিচালনা করছি।’ তাহলে কেন আপনাকে সরিয়ে দেওয়া হলো? জবাবে মহাপরিচালক বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তা ওএসডি হতেই পারে, এতে বলার কী আছে?’

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যক্রম জোরদার করতে ৫ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি সভা হয়। ওই সভায় মন্ত্রোলয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব ফরিদ উদ্দীন আহম্মদ চৌধুরী দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কোনো বিষয়ে কার্যক্রম ও দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না।

সভার কার্যপত্রে বলা হয়, মাদকের মামলার সংখ্যা অত্যন্ত কম। মে মাসে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় মাত্র দুটি মামলা হয়েছে, ওই এলাকার উদ্ধার প্রতিবেদনও সন্তোজনক নয়। কক্সবাজার জেলা থেকে আগে এই সংস্থা প্রচুর ইয়াবা উদ্ধার করলেও মামলা করেছে মাত্র ১২টি। একই অবস্থা রাজশাহী, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, টাঙ্গাইল ও চট্টগ্রামে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত এপ্রিল মাসে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে শেরপুর, দিনাজপুর ও মানিকগঞ্জ জেলার মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা চেয়ে পাঠানো হয়। কিন্তু অধিদপ্তর এখন পর্যন্ত কোনো তালিকাই দেয়নি। আবার মাদকবিরোধী অভিযান চালানোর জন্য বিভিন্ন দল গঠনের নির্দেশ দেওয়া হলেও তা গঠন করেনি। এমনকি তারা কোনো অভিযানও করেনি। শুধু ব্যবসায়ীদের তালিকা নয়, কয়েকটি নিরাময়কেন্দ্র সম্পর্কেও প্রতিবেদন চেয়েছিল মন্ত্রণালয়, তা-ও পাঠানো হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কাছে মাদক ব্যবসায়ীদের যে তালিকা আছে, তার প্রায় সব ঠিকানাই ভুল। এসব ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে কখনো কোনো অভিযানই করেনি অধিদপ্তর। দুদকের কর্মকর্তারা তালিকা ধরে খোঁজ করতে গিয়ে দেখেন, তালিকায় কোনো মানুষের অস্তিত্ব নেই। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ গত ৭ মে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে এক আলোচনা সভায় ভুয়া তালিকার প্রসঙ্গ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা বলেন, বনানীর আলোচিত রেইনট্রি হোটেলে অভিযান চালিয়ে কোনো মাদকদ্রব্য খুঁজে পাননি মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। অথচ ২৪ ঘণ্টা যেতে না যেতেই শুল্ক গোয়েন্দারা সেখান থেকে মদ উদ্ধার করেন।

জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান প্রথম আলোকে বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ঠুঁটো জগন্নাথ। তবে এটাকে ঢেলে সাজানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।