রোজিনা ইসলাম
১৫ জুন ২০১৭, ০২:০৫
আপডেট: ১৫ জুন ২০১৭, ০২:০৬

মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে সনদ যাচাইয়ের (ভেরিফিকেশন) পদ্ধতি তুলে দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান এবং ভর্তি নেওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সনদ যাচাইয়ের জন্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে না পাঠিয়ে মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে মিলিয়ে নেবে।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ-সংক্রান্ত একটি পরিপত্র তৈরি করেছে। আজ এ পরিপত্র বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এ ছাড়া পত্রিকায় এ সিদ্ধান্ত জানিয়ে একটি বিজ্ঞাপন দেওয়া হবে।
বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, প্রতিষ্ঠান, সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগ, ভর্তি ও চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি ইত্যাদি সুবিধা গ্রহণ বিষয়ে পাঠানো সনদ যাচাই-বাছাইয়ের জন্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। জনবল-সংকটে সনদ যাচাইয়ে দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেকে নিয়োগ পেয়েও চাকরিতে যোগ দিতে পারেন না। দীর্ঘসূত্রতা কমাতে পুরো বিষয়টি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি প্রস্তাব পাঠায় মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রী এ প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়ার পরই মন্ত্রণালয় এই দায়িত্ব প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়কে পালন করার কথা উল্লেখ করে প্রজ্ঞাপন তৈরি করেছে।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এখন থেকে কোনো মুক্তিযোদ্ধার নাম লাল মুক্তিবার্তা অথবা ভারতীয় তালিকায় থাকলে প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত লাল মুক্তিবার্তা অথবা ভারতীয় তালিকার সঙ্গে তা মিলিয়ে নেবে। দুটো মিলে গেলে তা ‘যোগ্য’ বলে বিবেচিত হবে। এ ক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধের সময় বয়স অবশ্যই ১৩ বছর হতে হবে। নাম-ঠিকানা না মিললে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় তাঁর বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠাবে। যাঁদের নাম লাল মুক্তিবার্তা বা ভারতীয় তালিকায় থাকবে না, তাঁদের গেজেট ও সাময়িক সনদ, প্রধানমন্ত্রী প্রতিস্বাক্ষরিত মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সনদ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট দেখে এসব তথ্য মিলিয়ে নিতে হবে।
জানতে চাইলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা সনদ যাচাই-বাছাইয়ের জন্য যথেষ্ট সময়ের প্রয়োজন। সনদ ব্যবহারকারী প্রার্থীরা এ মন্ত্রণালয়ে এসে তাঁদের সনদ প্রত্যয়নের তাগাদা দেন। কিন্তু জনবলের অভাবে আমরা তা পারি না।’ তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের সব তালিকা ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে। এ-সংক্রান্ত প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলেছে, বর্তমানে যাচাইয়ের জন্য প্রায় ২২ হাজার আবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা পড়ে আছে।