রোজিনা ইসলাম
২৩ মে ২০১৭, ১৮:৪২
আপডেট: ২৩ মে ২০১৭, ১৮:৪৩

তাঁর বিরুদ্ধে গাছ চুরির অভিযোগ রয়েছে। আরও আছে টাকা আত্মসাৎ, বন্দীকে পলায়নে সহায়তা করা ও মাদক সরবরাহের অভিযোগ। প্রায় পাঁচ বছর পর করা তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তাই ঘটেছে পদাবনতি। কারা তত্ত্বাবধায়কের (জেল সুপার) পদ থেকে তাঁকে কারাধ্যক্ষ (জেলার) পদে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আবু ফাতাহ। গতকাল সোমবার পর্যন্ত তিনি শরিয়তপুরের কারা তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আজ থেকে তাঁকে বান্দরবানে সংযুক্ত করে প্রেষণে কাশিমপুর কারাগারের কারাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কারা শাখা সূত্র জানায়, আবু ফাতাহর বিরুদ্ধে অভিযোগ, টাঙ্গাইল জেলা কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি কোনো নিয়মনীতি অনুসরণ করেননি। কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই অবৈধভাবে কারাগারের ভেতরে ও বাইরের পুরোনো মেহগনি, কাঁঠাল ও অন্য ৬০-৭০টি গাছ কেটে তিনি ব্যক্তিগত আসবাব তৈরি করেছেন। অন্যান্য অভিযোগের মধ্যে রয়েছে কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচির (কাবিখা) মাটি কেটে পুকুর খননের টাকা আত্মসাৎ, কাবিখা কর্মসূচি বাস্তবায়নে কারাগারের অন্য কর্মকর্তাকে সম্পৃক্ত না করা, তাঁর অসতর্কতায় কারাবন্দীর পলায়ন, নেশা করা, কারাবন্দীদের মধ্যে মাদকদ্রব্য সরবরাহ, আয়ের সঙ্গে সংগতিহীন টাকা দিয়ে জমি কেনা।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একজন উপসচিবকে দিয়ে এসব অভিযোগের তদন্ত করায়। তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (কারা) মুহিবুল হক বলেন, ‘আবু ফাতাহর অভিযোগ শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা ধারা অনুযায়ী প্রমাণিত হওয়ার পর আমরা তাঁর কাছে এ বিষয়ে জবাব চেয়েছিলাম। জবাব সন্তোষজনক ও গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়নি। এ জন্য গুরুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আবু ফাতাহ প্রথম আলোকে বলেন, তিনি কোনো অপরাধ করেননি। তাঁকে নিয়ে ষড়যন্ত্র হয়েছে। তিনি আদালতে যাবেন।