চার বছরের শিশু জোনায়েতের কাছে বাবা মোহম্মদ ইব্রাহিমের একমাত্র স্মারক এখন এই ছবি। নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনায় হত্যার অন্যতম শিকার গাড়িচালক ইব্রাহিমের পরিবার অপেক্ষা করে আছে রায়ের l ছবি: হাসান রাজা

নারায়ণগঞ্জে সাত খুন

‘দুর্ধর্ষ প্রকৃতির’ চার আসামি নিয়ে বিশেষ সতর্কতা

রোজিনা ইসলাম | আপডেট: ০১:৪৫, জানুয়ারি ১৫, ২০১৭ | প্রিন্ট সংস্করণ

নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলার রায় ঘোষণার দিন চার আসামিকে কারাগার থেকে হাতকড়া লাগিয়ে ও রশি বেঁধে নারায়ণগঞ্জের আদালতে হাজির করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেছে পুলিশ সদর দপ্তর।

আগামীকাল সোমবার নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সাত খুন মামলায় রায় ঘোষণার তারিখ ধার্য রয়েছে। এদিন মামলার ‘দুর্ধর্ষ প্রকৃতির’ চার আসামি—নূর হোসেন ও র‍্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাকে আদালতে হাজিরের সময় যেন কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়, সে জন্য পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পৃথক চিঠিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

কারা উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজনস) তৌহিদুল ইসলাম গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা রায়ের দিন সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেব। এ ব্যাপারে সতর্ক রয়েছি আমরা।’

পুলিশ সদর দপ্তরের চিঠিতে বলা হয়, নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুন মামলার আসামি ও কারাগারে শ্রেণিপ্রাপ্ত (ডিভিশনপ্রাপ্ত) আসামি লেফটেন্যান্ট কর্নেল (বরখাস্ত) তারেক সাঈদ, মেজর (বরখাস্ত) আরিফ হোসেন ও লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (বরখাস্ত) মাসুদ রানা বিভিন্ন বাহিনীর প্রশিক্ষণ পাওয়া কর্মকর্তা। তাঁরা আসামি হিসেবে দুর্ধর্ষ প্রকৃতির। এ ছাড়া নূর হোসেনও একজন দুর্ধর্ষ আসামি বলে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা জানিয়েছে। এই অবস্থায় যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা পলায়নের অপতৎপরতা রোধে অধিক সতর্কতার জন্য শ্রেণিপ্রাপ্ত এই আসামিদের ১৬ জানুয়ারি আদালতের ধার্য তারিখে হাতকড়া পরিয়ে ও রশি বেঁধে অতি সতর্কতার সঙ্গে আদালতে হাজির করার জন্য কারা কর্তৃপক্ষকে বলা যেতে পারে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এসব আসামিকে আদালতে নেওয়ার সময় তাঁদের ব্যবহৃত প্রিজন ভ্যানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনসহ সতর্ক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার-১-এর সিনিয়র জেল সুপার সুব্রত কুমার বালা প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশ সদর দপ্তরের চিঠি তাঁরা পেয়েছেন। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে গাজীপুরের পুলিশ সুপারকে বলা হয়েছে।

জানতে চাইলে গত রাতে গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ বলেন, ‘সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী এসব আসামিকে আদালতে নেওয়ার বিশেষ ব্যবস্থা ইতিমধ্যে নেওয়া হয়েছে। আমরা তাঁদের ব্যাপারে সতর্ক আছি।’

 প্রসঙ্গত, আসামিদের মধ্যে র‍্যাব-১১-এর সাবেক অধিনায়ক লে. কর্নেল তারেক সাঈদ হলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরীর (মায়া) জামাতা। মামলার প্রধান আসামি সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার অপরাধজগতের নিয়ন্ত্রক ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা নূর হোসেন। তাঁর নয়জন সহযোগীও আসামি। এর আগে গত বছরের জুনে পুলিশ জানিয়েছিল, তারেক সাঈদ বিধিবহির্ভূতভাবে হাসপাতালের কেবিনে রয়েছেন। সেখানে স্ত্রীসহ তাঁর স্বজনেরা অবাধে যাতায়াত করছেন। এই অবস্থায় আসামি পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের উপপরিদর্শক থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেছিলেন।

 এদিকে আসামি নূর হোসেন যাতে জেলে বসে তাঁর অনুসারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বা কোনো নির্দেশনা দিতে না পারেন, সে জন্য তাঁকে সার্বক্ষণিক নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখতে বলেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ-সংক্রান্ত এক গোয়েন্দা প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কারা কর্তৃপক্ষকে এ নির্দেশনা দেয় মন্ত্রণালয়।