রোজিনা ইসলাম | আপডেট: ০২:০০, অক্টোবর ১৮, ২০১৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

পুলিশের বিভিন্ন অভিযানে নিহত সন্দেহভাজন জঙ্গিদের লাশ এক মাসের মধ্যে দাবি না করলে তা আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের মাধ্যমে দাফন করা হবে। কোনো পরিবার যদি লাশ নিতে চায়, তা দিতে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বাধা নেই। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল রোববার প্রথম আলোকে বলেন, এক মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট পরিবার লাশ দাবি না করলে দাফনের জন্য আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামকে দিয়ে দেওয়া হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘যাঁরা বলছেন আমরা লাশ দিইনি, তাঁদের উদ্দেশে বলছি, আপনারা তিন মাস পরে লাশ চাইলে আমরা কোথা থেকে দেব? প্রয়োজনে কবর থেকে তুলে নিয়ে যান, আমাদের আপত্তি নেই। জঙ্গিরা নিহত হওয়ার পর আমরা তাদের নাম-ঠিকানা খুঁজে খুঁজে বের করে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করি। এরপর তাদের আত্মীয়রা কেন নিতে আসেন না?’
রাজধানীর কল্যাণপুরে পুলিশের অভিযানে নিহত নয়জন সন্দেহভাজন জঙ্গির মধ্যে একজন শেহজাদ অর্ক রউফ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। তাঁর বাবা তৌহিদ রউফ চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে ছেলের লাশ চেয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছেন। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, অর্কসহ নয়জনকে ২৮ সেপ্টেম্বর বেওয়ারিশ হিসেবে ঢাকার জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ২২ ও ২৮ সেপ্টেম্বর দুই দফায় ১৫ জনের লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের মাধ্যমে জুরাইনে দাফন করা হয়। যদিও তাঁদের অনেকেরই স্বজনদের ডেকে ডিএনএ নমুনা নিয়ে লাশের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। এই ১৫ জনের মধ্যে ৬ জন ১ জুলাই গুলশানে হলি আর্টিজানে সেনা কমান্ডোদের অভিযানে এবং ৯ জন ২৬ জুলাই ঢাকার কল্যাণপুরে জঙ্গি আস্তানায় পুলিশের অভিযানে নিহত হন।
এ ছাড়া ঢাকার রূপনগরে পুলিশের অভিযানে নিহত মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলাম, আজিমপুরে নিহত তানভীর কাদেরী এবং নারায়ণগঞ্জে নিহত ‘নব্য জেএমবি’র কথিত সামরিক শাখার প্রধান তামিম চৌধুরীসহ তিনজনের লাশ এখনো ঢাকা মেডিকেল কলেজের হিমঘরে রাখা আছে। এরপর সর্বশেষ ৮ অক্টোবর গাজীপুর, টাঙ্গাইল ও আশুলিয়ায় পুলিশ ও র্যা বের চারটি অভিযানে নিহত ১২ জনের মধ্যে ১ জনের লাশ গত বুধবার পরিবারকে দেওয়া হয়। বাকিদের মধ্যে নয়জনের লাশ কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে, একজনের লাশ ঢাকা মেডিকেল ও একজনের লাশ টাঙ্গাইলের হাসপাতালের হিমঘরে রাখা আছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, এক মাস পর্যন্ত লাশ হিমঘরে রাখা যাবে, তা তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারবেন না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অসুবিধা না থাকলে সর্বোচ্চ হয়তো এক মাস রাখা যেতে পারে।