মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারের নিচে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের সামনে বিশৃঙ্খলভাবে গাড়ি রাখায় প্রতিনিয়তই এখানে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে l ছবি: প্রথম আলো

রোজিনা ইসলাম | ২৩ জানুয়ারি, ২০১৬
মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারের নিচে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের সামনে বিশৃঙ্খলভাবে গাড়ি রাখায় প্রতিনিয়তই এখানে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে l ছবি: প্রথম আলো‘আমার বাসা যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইলে (ডেমরা রোডে)। প্রতিদিন ফ্লাইওভারের নিচ দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। তখন মনে হয়, এই এলাকা কি সিটি করপোরেশনের অধীনে? ফ্লাইওভারের কাজ চলার সময় আমরা যে কষ্ট সহ্য করেছি, এখন তা কয়েক গুণে বেড়ে গেছে।’ একজন ভুক্তভোগী এভাবেই প্রতিদিন বাড়ি ফেরার সময় তাঁর ভোগান্তির কথা বললেন প্রথম আলোকে।
কয়েকজন পথচারীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই দুর্ভোগের মূল কারণ সায়েদাবাদ টার্মিনালের ভেতরে ও বাইরের অব্যবস্থাপনা। টার্মিনালের বেশির ভাগ গাড়ি টার্মিনালের মূল জায়গা ছেড়ে রাখা হচ্ছে রাস্তার ওপরে। এতে করে পথ সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। ফলে গাড়ি আর এগোয় না।
নগরবাসীর ভাষ্য, এই সমস্যা সমাধানে মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারের তিনটি র্যা ম্প টার্মিনালের ভেতরে নামানো হয়েছে। কিন্তু তাও কাজে আসছে না। টোল দেওয়ার ভয়ে বাসগুলো ফ্লাইওভারের ওপরে ওঠে না। এতে করে টার্মিনাল ও এর বাইরের রাস্তায় যানজট লেগেই থাকছে।
জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, টার্মিনালের বাইরে কোনো বাস রাখা যাবে না। বাস রাখতে হলে টার্মিনালের ভেতরেই রাখতে হবে। তা ছাড়া কোনো কোম্পানির দুটির বেশি কাউন্টার থাকতে পারবে না।
সায়েদাবাদ থেকে যাত্রাবাড়ীর দূরত্ব এক কিলোমিটারের কম। কিন্তু ভয়াবহ যানজটের কারণে এক থেকে দেড় ঘণ্টার আগে এই পথ অতিক্রম করা যায় না। অনেকে গাড়িতে না উঠে হেঁটে যান। ফ্লাইওভারের ওপর দিয়ে গেলে টোল দিতে হয়, সে কারণে বেশির ভাগ যানবাহন নিচ দিয়ে চলাচল করে।
ভুক্তভোগী, এলাকাবাসী ও বাসচালকদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের অব্যবস্থাপনার কারণে প্রতিনিয়ত যানজট তৈরি হচ্ছে টার্মিনালের প্রবেশপথগুলোতে। তবে টার্মিনালের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান ফ্লাইওভারের তিনটি র্যা ম্প নির্মাণ করা হয়েছে বাস টার্মিনালের ভেতর দিয়ে। কিন্তু বাস টার্মিনালের অব্যবস্থাপনার কারণে সেগুলো কোনো কাজেই আসছে না। এ ছাড়া টার্মিনালে বাইরে সড়কের দুই পাশে সায়েদাবাদ রেলগেট থেকে জনপথ মোড় পর্যন্ত অসংখ্য বাস কাউন্টার তৈরি করা হয়েছে। এসব কাউন্টারের বাসগুলো রাস্তায় দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানোর ফলে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের সামনের রাস্তায় প্রতিনিয়ত যানজট হচ্ছে।
পরিবহনশ্রমিকেরা জানান, টার্মিনালের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান ফ্লাইওভারের তিনটি র্যা ম্প নির্মাণ করা হয়েছে সায়েদাবাদ টার্মিনালের ভেতর দিয়ে। জনপথ মোড় দিয়ে আর কে চৌধুরী ডিগ্রি কলেজের সামনে দিয়ে টার্মিনালে প্রবেশ করেছে একটি র্যা ম্প। এ ছাড়া সায়েদাবাদ রেলগেটের সামনে দিয়ে দুটি র্যা ম্প বাস টার্মিনালে নামানো হয়েছে। এর একটি দিয়ে গুলিস্তান ও পলাশী মোড় থেকে আসা গাড়িগুলো নামতে পারে। অপরটি দিয়ে ফ্লাইওভারে উঠতে পারে। কিন্তু ফ্লাইওভারে ওঠা-নামার র্যা ম্পগুলোর পথে বাস পার্কিং করে রাখার কারণে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের কোনো গাড়ি ওঠা-নামা করতে পারে না। আবার টার্মিনালের ভেতরে গাড়িগুলো এলোমেলো করে রাখার কারণেও যাত্রীবাহী বাস সহজে প্রবেশ করতে পারে না।
জানতে চাইলে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালটি নিয়ে একাধিকবার সিটি করপোরেশন ও পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে সভা করে ওই এলাকার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। কিন্তু বাস টার্মিনালের ভেতরে জায়গা কম থাকায় প্রবেশপথে যানজট কমানো যাচ্ছে না। এ ছাড়া টার্মিনালের ভেতরে ফ্লাইওভারের র্যা ম্প দুটি ব্যবহার নিয়েও বাসমালিক ও সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সভা করা হয়েছে। এতে ফ্লাইওভারের অতিরিক্ত টোল কমানো এবং র্যা ম্পগুলোর প্রবেশমুখে প্রতিবন্ধকতা দূর করার দাবি জানান বাসমালিকেরা।