নিজস্ব প্রতিবেদক | ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৫   

ইসলামিক স্টেট (আইএস) এবং আল-কায়েদার উপস্থিতি আছে—এমন দেশের নাগরিকদের ইজতেমায় আসা নিরুৎসাহিত করবে সরকার। একই সঙ্গে ইজতেমায় অংশ নিতে ইচ্ছুক মিয়ানমারের নাগরিকদের এবার আগে আগে ভিসা বা পাস নিতে হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক উগ্রবাদী ধর্মীয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বিশ্বব্যাপী সহিংস ঘটনা ঘটাচ্ছে। কয়েকটি দেশে এসব গোষ্ঠীর সঙ্গে যুদ্ধ চলছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত ও জঙ্গি-অধ্যুষিত এসব দেশের নাগরিকেরা যাতে ইজতেমায় অংশ নিতে নিরুৎসাহিত হন, সে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বলা হয়েছে।
বিশ্ব ইজতেমা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। গাজীপুরের টঙ্গীতে ৮-১০ জানুয়ারি প্রথম পর্বে এবং ১৫-১৭ জানুয়ারি দ্বিতীয় পর্বে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এ বিষয়ে প্রথম আলোকে বলেন, ইজতেমার নামে যেন কোনো উগ্রপন্থী সংগঠনের সদস্য বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে, সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে আইএস ও জঙ্গিপ্রবণ দেশগুলোর বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ইজতেমার নামে রোহিঙ্গা প্রবেশ রোধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বলা হয়েছে।

টঙ্গীতে ৮-১০ জানুয়ারি প্রথম পর্বে এবং ১৫-১৭ জানুয়ারি দ্বিতীয় পর্বে বিশ্ব ইজতেমা

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এবার বিমানবন্দর বা স্থলবন্দরে (ভিসা অন অ্যারাইভাল) ভিসা দেওয়ার বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও কড়াকড়ি আরোপ করা হবে। পাশাপাশি ইজতেমা চলাকালে ও কাছাকাছি সময়ে কোনো বিদেশি মেহমানকে ট্রানজিট ভিসা ইস্যু না করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সব দূতাবাসকে নির্দেশনা দিতে বলা হয়। মিয়ানমারের নাগরিকদের ইজতেমা শুরুর তিন দিন আগে ভিসা বা পাস দিতে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডকে বলা হয়েছে। ইজতেমার কমপক্ষে এক সপ্তাহ আগে থেকে সীমান্তপথে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ রোধে প্রতিটি স্থলবন্দরে এসবি, এনএসআই, ডিজিএফআই, পুলিশ ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের একজন করে প্রতিনিধি রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
গত বছর ইবোলা ভাইরাসের প্রকোপ থাকায় আফ্রিকা মহাদেশের সিয়েরা লিওন, গিনি, মালি, নাইজেরিয়া ও লাইবেরিয়ার মুসল্লিদের ইজতেমায় আসা নিরুৎসাহিত করেছিল সরকার। এসব দেশের মুসল্লিদের অংশগ্রহণের জন্য ‘ইবোলা ভাইরাস ফ্রি’ সনদ বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল।
ইজতেমার আইনশৃঙ্খলা নিয়ে গতকাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বলা হয়, পাঁচ স্তরে তিনটি সেক্টরে ভাগ হয়ে ইজতেমাস্থলের মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। র্যাবের সিসি ক্যামেরা, পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, মোবাইল কোর্ট, গোয়েন্দা কার্যক্রম, হেলিকপ্টার টহল, মেডিকেল সার্ভিস, স্ট্রাইকিং ফোর্স, নৌটহলসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে।