রোজিনা ইসলাম | ১৮ নভেম্বর, ২০১৫

মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদকে প্রাণ ভিক্ষা চাওয়ার জন্য সাত দিনের সময় দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে যুক্তিসংগত একটা সময় দেওয়া হবে। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক আজ বুধবার রাতে প্রথম আলোকে এ কথা বলেন।
এদিকে এ দুজনের ফাঁসির রায় কার্যকরে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন অনুযায়ী জেলকোড অনুসরণ করতে হবে না।
 
মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদকে ফাঁসির রায় কার্যকর করতে প্রস্তুত সরকার। যে কোনো সময়ে ফাঁসির দণ্ড কার্যকর করা হবে। প্রস্তুত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যেকোনো সময় মুজাহিদের ফাঁসির রায় কার্যকর করবে কারা কর্তৃপক্ষ। প্রাণভিক্ষা না চাইলে বা চাওয়ার পর আবেদন নাকচ হলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা সময়ের ব্যাপার মাত্র।
আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ফাঁসির রায় কার্যকরে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন অনুযায়ী জেলকোড অনুসরণ করতে হবে না। কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকরের সময়ও এ বিষয়টি অনুসরণ করা হয়নি, ওই রায়ের সময় গাইডলাইন দেওয়া ছিল মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির আসামিদের ক্ষেত্রে জেল কোড প্রযোজ্য হবে না, সেটিই এখন অনুসরণ করা হচ্ছে। যদিও জেলকোডের ৯৯১ রুল অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইতে সাত দিন সময় থাকে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে জেলকোড অনুসরণ করা হবে না।
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক আজ বুধবার রাতে প্রথম আলোকে বলেন, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের প্রাণ ভিক্ষা চাইতে সময় দেওয়ার জন্য সাত দিনের প্রয়োজন নেই। তবে যুক্তিসংগত একটা সময় দেওয়া হবে। আর এর মধ্যেই সরকার সব ব্যবস্থা করে রাখবে বলেও জানান তিনি। আইনমন্ত্রী জানান, রিভিউয়ের পূর্ণাঙ্গ কপি আসামির কাছে পৌঁছানো হবে কি-না নাকি শুধু আদেশই যথেষ্ট, সেটি পরিষ্কার হতে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজি প্রিজনের সঙ্গে কথা বলবেন।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, আইনি নির্দেশনা মেনেই রায় কার্যকর করবে সরকার। তিনি বলেন, রিভিউ খারিজের আদেশের কপি এলে আইন অনুযায়ী রায় কার্যকর করা হবে। রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়ার সময় রয়েছে। আইন মেনে সব ঠিকঠাক করে আমরা ব্যবস্থা নেব। এ রায়ের প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামী হরতাল ডাকা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জামায়াত এখনো রাজনৈতিক দল হিসেবে রয়েছে। তারা হরতাল দিতেই পারে। তবে জামায়াতের হরতাল জনগণ আগেও মানেনি। এখনো বিএনপির অবরোধ চলছেই। তারা আনুষ্ঠানিক অবরোধ প্রত্যাহার করেনি।
জামায়াতকে কেনো নিষিদ্ধ করা হচ্ছে না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, আদালতে মামলা রয়েছে। আদালতের মাধ্যমেই আমরা সিদ্ধান্ত নেব।
দেশের আইন-শৃঙ্খলার প্রশ্নে তিনি বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত ভালো আছে, যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও ভালো আছে। তবে দু’একটি অপচেষ্টা হচ্ছে। যুদ্ধাপরাধের বিচার ঠেকানো ও অন্য কোনো উদ্দেশ্য দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হচ্ছে।।
আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, বিশেষ কারণে সামাজিক যোগাযোগের কয়েকটি মাধ্যম সাময়িক সময়ের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। আমাদের দেশে নয়, ফ্রান্সসহ অন্যান্য জায়গায় অনেকগুলো ঘটনা ঘটেছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে (আমাদের) দেশের মানুষ একটু উৎকণ্ঠিত ছিল। বিচার কার্যকর করার সময় অচলাবস্থা সৃষ্টি করতে পারে। এসব কারণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
দিনাজপুরে ইতালির নাগরিককে ছুরিকাঘাতের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, তার জন্য নিরাপত্তার ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু উনি নিজেই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানিয়েছিলেন আমি ৩০ বছর এইখানে কাজ করছি। আমার কোনো শত্রু নেই। তার আত্মবিশ্বাস ছিল। আমরা চেষ্টা করছি, দোষীদের খুঁজে বের করা হবে।
গত ১ অক্টোবর মুজাহিদ-সাকার মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সেদিনই কারাগারে লাল কাপড়ে মোড়ানো মৃত্যু পরোয়ানা ও ফাঁসির চূড়ান্ত রায় পড়ে শোনানো হয় তাদেরকে। আগের দিন ৩০ সেপ্টেম্বর ওই দু’জনের আপিল খারিজ করে ফাঁসি বহাল রেখে সর্বোচ্চ আদালতের প্রকাশ করা পূর্ণাঙ্গ চূড়ান্ত রায়ের ভিত্তিতে এ মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেন বিচারিক আদালত।
গত ১৪ অক্টোবর রিভিউ আবেদন করার পর থেকে মৃত্যু পরোয়ানা স্থগিত ছিল। আজ বুধবার রিভিউ খারিজ হওয়ায় ফের সচল হয়েছে এ পরোয়ানা। এখন মুজাহিদ ও সাকাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রায় কার্যকরের বিষয়টি সম্পূর্ণ সরকারের এখতিয়ারধীন। রায় পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমও জানিয়েছেন, এ দণ্ড কার্যকর এখন সময়ের ব্যাপার।
সূত্রঃ প্রথম আলো