তাবেলা হত্যা প্রসঙ্গে প্রথম আলোকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রোজিনা ইসলাম | অক্টোবর ২৮, ২০১৫

ইতালির নাগরিক সিজার তাবেলা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা ‘বড় ভাই’ হচ্ছেন বিএনপির ঢাকা মহানগরের যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ কাইয়ুম ওরফে কাইয়ুম কমিশনার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল প্রথম আলোকে এ তথ্য জানিয়ে বলেছেন, তাঁকে খোঁজা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, বিএনপির এই নেতা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। ইতালির নাগরিক সিজার তাবেলাসহ বিভিন্ন হত্যা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে তিনিই টাকা দিয়েছেন। আর সেই টাকা এসেছে লন্ডন থেকে। কোন মাধ্যমে, কীভাবে টাকা এসেছে তা এখনো তদন্তকারীরা অনুসন্ধান করছেন। সরকারের কাছে এ বিষয়ে পুরো তথ্য আসার পরই আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমে বিষয়টি জানানো হবে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এম এ কাইয়ুম বর্তমানে মালয়েশিয়ায় আছেন।
ঘটনার ২৮ দিন পর গত সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইতালির নাগরিক সিজার তাবেলা হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের কথা জানায় ঢাকা মহানগর পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে একজন গত সোমবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে সংবাদ সম্মেলনের অনেকটাই ঘিরে ছিল এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ‘বড় ভাই’। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া ‘বড় ভাই’-এর পরিচয় নিশ্চিত করেননি।
সাবেক কমিশনার এম এ কাইয়ুমের ছোট ভাই এম এ মতিনকে নিরাপত্তা বাহিনী আটক করেছে বলে ইতিমধ্যে অভিযোগ করেছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। তবে পুলিশ তা স্বীকার করেনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ইতালির নাগরিকের হত্যাকাণ্ডে শুধু ‘বড় ভাই’ আসল নয়, তাঁর পেছনে যাঁরা রয়েছেন, তাঁরা রাজনীতিবিদ। তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণে রাজনৈতিক দলের নেতাদের সংশ্লিষ্টতা (খুনের সঙ্গে) পাওয়া গেছে। তাঁরা গোয়েন্দা নজরদারিতে আছেন। তথ্যপ্রমাণ বিচার-বিশ্লেষণ করে দ্রুত তাঁদের গ্রেপ্তার করা হবে।এম এ কাইয়ুম
মন্ত্রী বলেন, গোয়েন্দারা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে। তা মিলিয়ে দেখার জন্য বিলম্ব হচ্ছে। বিএনপি আমলে একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলার মতো কোনো ‘জজ মিয়া নাটক’ সাজানো হবে না বলেও আশ্বস্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
ঢাকা ও রংপুরে দুই বিদেশি হত্যাকাণ্ডে আলাদা ব্যক্তিরা থাকলেও কারণ একই জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিদেশি হত্যাকাণ্ড আন্তর্জাতিক ও দেশীয় ষড়যন্ত্র। আমাদের দেশকে জঙ্গি রাষ্ট্র হিসাবে প্রমাণ করতে চায় ষড়যন্ত্রকারীরা। দুই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা একই জায়গা থেকে হয়েছে।’ দুই বিদেশি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে দুই-এক দিনের মধ্যেই বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলে তিনি জানান।
পুরান ঢাকায় হোসেনি দালানে বোমা হামলা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ইতিমধ্যে আমরা সব ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। অচিরেই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হবে।’