রোজিনা ইসলাম | জুন ১০, ২০১৩

বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও ধর্মভিত্তিক কয়েকটি দলের দেওয়া হরতালের কারণে গত পাঁচ মাসে দেশের বৃহত্তম দুগ্ধ উৎপাদনকারী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান মিল্ক ভিটার পণ্য বিক্রি কমে গেছে। এর ফলে লাভের ওপর প্রভাব পড়ছে। আর্থিক হিসাবে প্রতিষ্ঠানের এই ক্ষতির পরিমাণ ২৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। আর খামারিদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি সাড়ে ৫১ লাখ লিটার দুধ।

এই ক্ষতির কথা জানিয়ে সম্প্রতি বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কাছে চিঠি দিয়েছে মিল্ক ভিটা কর্তৃপক্ষ। চিঠিতে মিল্ক ভিটার দুধ ও দুগ্ধজাতপণ্য বহনকারী গাড়ি হরতালের আওতামুক্ত রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এসব পণ্য ভোক্তার অপরিহার্য খাদ্যসামগ্রী এবং শিশু খাদ্য ও রোগীর পথ্য হিসেবে বিবেচনা করতেও অনুরোধ জানানো হয়েছে।

জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত সারা দেশে ৩২ দিন হরতাল হয়েছে। এই সময় স্থানীয়ভাবেও ২৯ দিন হরতাল হয়েছে। আজ সোমবার সারা দেশে জায়ায়াতে ইসলামীর ডাকা হরতালের কারণে দিনাজপুর ও রংপুরে মিল্ক ভিটার দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য সংগ্রহ ও সরবরাহ বন্ধ থাকবে বলে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে মিল্ক ভিটার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুনীর চৌধুরী গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, মিল্ক ভিটার সঙ্গে ১৩ লাখ সমবায়ী এবং তাঁদের পরিবার সম্পৃক্ত রয়েছে। এক দিনের হরতালের কারণে সমবায়ীর কাছ থেকে প্রায় আড়াই লাখ লিটার দুধ সংগ্রহ বন্ধ থাকে। সেই হিসেবে প্রতিদিন আনুমানিক দেড় কোটি টাকার তরল দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য বিক্রিও বন্ধ হয়ে যায়। এ বিষয়ে বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাবেন বলে আশা করেন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার  প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান প্রথম আলোকে বলেন, এমন অনুরোধসংক্রান্ত  কোনো চিঠি পাঠানো হয়েছে কি না তা তাঁর জানা নেই।

সূত্র জানায়, গত পাঁচ মাসে কয়েক দিন পর পর হরতালের কারণে খামারের মালিকেরা বিপাকে পড়েছেন। হরতালের সময় মিল্ক ভিটা এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর দুধ সংরক্ষণের জায়গা পরিপূর্ণ হওয়ায় প্রায় সবাই দুধ সংগ্রহ বন্ধ করে দেন। এর ফলে দুধের প্রকৃত মূল্য ৪০ থেকে ৪৫ টাকার স্থলে নেমে প্রতি লিটার ১৫ থেকে ২০ টাকায় নেমে আসে।

এ প্রসঙ্গে সিরাজগঞ্জের শরিফুল মিয়া নামে একজন খামার মালিক জানান, প্রতি লিটার দুধ ৪৫ টাকায় বিক্রি করা হয়। কিন্তু হরতালের সময় দুধ বিক্রি করে লিটারপ্রতি ১৪ টাকায় পাওয়া যায়। হরতালের প্রভাব থাকে দু-তিন দিন পর্যন্ত। তিনি বলেন, হরতালের জন্য শত শত খামারি উৎপাদিত দুধ বিক্রি করতে পারেন না। এত বড় ক্ষতি আমরা কীভাবে পূরণ করব, সেই চিন্তায় দিশেহারা হয়ে পড়েছি।