রোজিনা ইসলাম |  জুন ০৩, ২০১৩

এবার সরকারের পক্ষ থেকেই বলা হয়েছে, মেয়র মোহাম্মদ হানিফ (গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ী) উড়ালসড়ক এলাকার যাত্রাবাড়ী অঞ্চলের আশপাশের সড়ক চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এর ফলে যানবাহন প্রতিমুহূর্তে দুর্ঘটনায় পড়ছে, যাত্রীদেরও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ এ অবস্থা দূর করতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়ে গতকাল রোববার বিকেলে চিঠি দিয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, এর আগেও কয়েকবার এ সড়ক মেরামতের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু কোনোভাবে এ এলাকার রাস্তাঘাট ভালো রাখা যাচ্ছে না। এ সড়ক মেরামতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা দ্রুত স্থানীয় সরকার বিভাগকে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে কর্মকর্তাদের হুঁশিয়ার করে বলা হয়েছে, অবিলম্বে যাত্রাবাড়ী অঞ্চলের আশপাশের রাস্তাঘাট মেরামত না হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী, যোগাযোগমন্ত্রী থেকে শুরু করে ভুক্তভোগী বিভিন্ন ব্যক্তি যাত্রাবাড়ীর চলাচল অনুপযোগী রাস্তা নিয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করেছেন। গতকাল সকালে যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের টেলিফোনে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানককে এ রাস্তা ঠিক করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।

জাহাঙ্গীর কবির নানক ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রথম আলোকে বলেন, ‘সবাই আমার কাছে অভিযোগ করছেন। কিন্তু এতবার তাগাদা দিয়েও যাত্রাবাড়ীর এই খানাখন্দেভরা রাস্তাঘাট ঠিক করা যাচ্ছে না।’ তিনি বলেন, ‘আমি মঙ্গলবার ওই এলাকা পরিদর্শনে যাব। গাফিলতির জন্য কারা দায়ী খুঁজে বের করব।’ সরেজমিনে দেখা গেছে, কাঁচা রাস্তার খানাখন্দের কারণে এবং রাস্তার দুই পাশের গাড়ি এক পাশ দিয়ে চলাচলের কারণে যাত্রাবাড়ী মোড় থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত সারাক্ষণ যানজট লেগে থাকে। একদিকের গাড়ি চললে বিপরীত দিকের গাড়ি থামিয়ে রাখা হয়। রাজধানীর অন্যতম এই প্রবেশপথে পালা করে যান চলাচলের কারণে সৃষ্ট জটে গাড়ির সারি সাইনবোর্ড এলাকা থেকে টিটিপাড়া পর্যন্ত চলে যায়।

গতকাল বিকেলে সরেজমিনে গেলে একজন বাসযাত্রী এই প্রতিবেদককে বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে যাত্রাবাড়ী পৌঁছাতে যদি তিন ঘণ্টা লাগে, সেখান থেকে সায়েদাবাদ পৌঁছাতে লাগে আরও তিন ঘণ্টা।

এদিকে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা থেকে শহীদ ফারুক সড়ক এবং জুরাইন সড়ক থেকে যাত্রাবাড়ী চলাচলকারী বাসগুলো নির্ধারিত পথে না গিয়ে সহজে যাত্রাবাড়ী মোড় দিয়ে রাস্তা ক্রসিং করার কারণেও যানজটের সৃষ্টি হয়ে থাকে।

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যাত্রাবাড়ী অঞ্চলের ছয় কিলোমিটার রাস্তার সংস্কার করবে সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট বিভাগ জরিপ করে স্থানীয় সরকার বিভাগকে তাদের বাজেট জানায়। সিটি করপোরেশন জানিয়েছিল, তাদের কোনো আপত্তি নেই; তবে তাদের ওই টাকা বরাদ্দের মতো আর্থিক অবস্থা নেই। এ কারণে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু মে মাসে এসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, এ রাস্তা সংস্কার করবে সিটি করপোরেশনই। যে কারণে পুরো প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হয়েছে। এ ছাড়া সেবা সংস্থাগুলোর নিয়ন্ত্রণহীন খোঁড়াখুঁড়ির কারণে ড্রেনগুলো ভরে যাওয়ায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।

জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘১৫ দিন আগে বসে আমরা চার কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ তিনি বলেন, কাঁচা রাস্তার কারণেই এত ভোগান্তি।

 প্রসঙ্গত, ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে জয়কালী মন্দির থেকে যাত্রাবাড়ী এবং ডেমরা ও কাঁচপুর প্রান্তে এক কিলোমিটার বরাবর রাস্তা মেরামত করা হয় কয়েক মাস আগে। বৃষ্টির পর সে রাস্তা আবার খারাপ হয়ে গেছে। গত দেড় বছরে বাসাবো, কদমতলা, মানিকনগর, গোপীবাগ, কেএম দাস লেন, হাটখোলা, ওয়ারী, ধোলাইখাল, মগবাজার, মৌচাক, রামপুরা এলাকার বেশির ভাগ রাস্তা মেরামত হয়নি। কিছু রাস্তার ভেতরের অংশ বেহাল রেখেই ওপরে কার্পেটিং করার পর অল্প সময়ের মধ্যে আবার আগের দশায় ফিরে গেছে।